‘যারা জুলাইকে কটাক্ষ করবে, তাদের জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে,

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কটাক্ষকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। জুলাইকে অবহেলিত করার চেষ্টা করলে বরদাশত করা হবে না বলে জানান তিনি।

Jul 5, 2026 - 14:00
 0  2
‘যারা জুলাইকে কটাক্ষ করবে, তাদের জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে,
×

চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার বা কটাক্ষকারীদের তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থান কোনো নিয়ম মেনে হয়নি, জাতিকে স্বৈরাচারমুক্ত করার জন্য এই বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। এই জুলাইকে যারা এখন কটাক্ষ করতে চাইবে, অস্বীকার করতে চাইবে কিংবা বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করে অবহেলিত করতে চাইবে, তাদের জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে।”

​সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘দেশটিভি’-এর একটি লাইভ টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘জুলাই ব্যর্থ হলে আমাদের হাড্ডি-মাংসও মিলত না’:

বিপ্লবের গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রদলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আজকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল বলেই আমি আবিদ এখানে দাঁড়িয়ে টকশো করতে পারছি, মুক্ত বাতাসে কথা বলতে পারছি। যদি জুলাই কোনো কারণে ব্যর্থ হতো, তাহলে হয়তো আজকে আমাদের হাড্ডি-মাংসও খুঁজে পাওয়া যেত না। পতিত স্বৈরাচার আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিত।” তিনি যোগ করেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাবে সবার আগে দেশকে রাখি। বাংলাদেশকে ভালোবাসতেই আমি সংগঠন করি; বাংলাদেশের মুক্তির জন্যই আমাদের রাজনীতি। তাই অবশ্যই আমার কাছে দলের চেয়ে বাংলাদেশ আগে।”

জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও শহীদদের স্মরণ:

আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “এই জুলাই মূলত বাংলাদেশ পরিবর্তনের জুলাই, দেশকে স্থিতিশীল করার জুলাই। দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যই ছাত্র-জনতার এই জুলাই বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। এ কারণে ‘জুলাই সনদের’ যেটি বাস্তবায়ন করা জরুরি, সেটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের জোরালো দাবি থাকবে।”

​নিজে চোখের সামনে সহযোদ্ধাদের অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিতে দেখেছেন উল্লেখ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি যখনই সুযোগ পাই, শহীদদের কবর জিয়ারত করতে যাই। কারণ, চোখের সামনে আমি তাদের বুলেটবিদ্ধ হয়ে মরতে দেখেছি। সেদিন তাদের জায়গায় আমারও মৃত্যু হতে পারত। আমি দীর্ঘ সময় ধরে পরম শ্রদ্ধায় সেই কবরগুলোকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আজকে পতিত স্বৈরাচারের বিভিন্ন পেদোস ও দোসররা দেশে বসে নিরাপদে থেকে জুলাইকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিচ্ছে।”

সরকারের প্রতি জিরো টলারেন্সের আহ্বান:

টকশোতে ছাত্রদলের এই ভিপি প্রার্থী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের প্রশ্নে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া যাবে না। জুলাই আমাদের দেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, দেশের অস্তিত্বের প্রতীক। আমাদের ইতিহাসে ১৯৭১ সাল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ২০২৪ সালের চব্বিশও রাষ্ট্রের জন্য ঠিক ততটুকুই গুরুত্বপূর্ণ। যারা জুলাইকে নিয়ে ট্রল বা কটাক্ষ করে, তাদের ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ করতে হবে।”