৫ আগস্টের পর দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি এবং এ নিয়ে প্রতিবেশী দেশের কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়িয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকার।
গত বছরের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা ও সংশয় থাকলেও বাস্তবে কোথাও কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বাবু বিজন কান্তি সরকার। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে প্রতিবেশী একটি দেশের কিছু গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল।”
গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চরকোশুণ্ডা কালীমন্দিরে বার্ষিক কালীপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নির্দেশ ছিল’:
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “৫ আগস্টের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে তাদের ওপর আবারও পূর্বের মতো নির্যাতন নেমে আসতে পারে। কিন্তু দলের নির্দেশে আমরা যখন পরদিনই দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাই, তখন দেখা গেল কোনো হিন্দুর বাড়িঘরে হামলা হয়নি, কোনো হিন্দু বা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের ওপরও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।”
তিনি আরও বলেন, “এর মূল কারণ ছিল, লন্ডন থেকে দেশনায়ক তারেক রহমান এবং দেশ থেকে দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা মাঠপর্যায়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন—কোনো মানুষের ওপর, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেন কোনো ধরনের আঘাত বা অন্যায় না করা হয়। আমাদের নেতাকর্মীরা রাত জেগে মন্দির পাহারা দিয়েছেন।”
মাথা উঁচু করে বাঁচার আহ্বান:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও অকাতরে জীবন দিয়েছেন। হিন্দু মা-বোনেরাও সমান ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই এই স্বাধীন বাংলাদেশে আপনারা বুক ফুলিয়ে, মাথা উঁচু করে চলবেন। কেউ কোনো উসকানি বা ভয় দেখালে স্পষ্টভাবে বলবেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য আপনাদেরও সমান অবদান রয়েছে।” তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অতিথিবৃন্দ:
চরকোশুণ্ডা কালীমন্দির কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সিংজুরি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার সরকার লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর।
এ সময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক রঞ্জিত কুমার দে, যুগ্ম আহ্বায়ক মিঠু রবি দাস, সদস্যসচিব গৌরাঙ্গ সরকার, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ।


