গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রস্তাবিত ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা’।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রস্তাবিত ৮২ ফুট উচ্চতার বিশাল রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে ব্যাপক মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা’র ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের এই বিতর্কিত উদ্যোগ মূলত একটি সাম্প্রদায়িক উসকানি ছাড়া আর কিছুই না। তারা এই নির্মাণ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ:
বক্তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কঠোর হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মুসলমানদের মধ্যে ঐতিহ্যগত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধায় এই বিশাল রামমূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশেও বিদ্যমান সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানান তারা।
তদন্তের দাবি ও বিক্ষোভ মিছিল:
কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, “প্রস্তাবিত এই বিতর্কিত মূর্তি নির্মাণের কার্যক্রম এখনই বন্ধ করে পুরো বিষয়টি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।” একইসঙ্গে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জোর দাবি জানান।
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে সংগঠনটির মূল সমন্বয়ক আখম আশরাফুর রহমান, শাহিনুর রহমান, মনজুরুল হক, আহমেদ তালুকদার ও রাসেল মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে সর্বস্তরের অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কুড়িগ্রাম শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়।


