১০ জুলাই ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ ও গণমিছিল, প্রধান অতিথি মুফতি ফয়জুল করিম
সারাদেশে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ভারতীয় আগ্রাসন রোধ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১০ জুলাই বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ ও গণমিছিলের ডাক দিয়েছে দলটি।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদের পতন থেকে শিক্ষা নিয়ে মাঠপর্যায়ের সকল সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজদের কঠোরহস্তে দমন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। একই সাথে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও চব্বিশের ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
আজ সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম ও সেক্রেটারী আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল মজুমদার এসব কথা বলেন।
‘চাঁদাবাজদের অত্যাচারে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ’:
বিবৃতিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃদ্বয় বলেন, “রাজধানীর গুলিস্তানসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতাকর্মী ভয়াবহ চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মহোৎসবে মেতে উঠেছে। এমনকি এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করার সাহস দেখাচ্ছেন, তাদের ওপরই উল্টো বর্বরোচিত হামলা চালানো হচ্ছে। চাঁদাবাজদের এমন চরম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।”
তারা গতকাল রোববারের একটি রোমহর্ষক ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বরিশালের একটি ঘটনা পুরো দেশবাসীকে স্তব্ধ ও স্তম্ভিত করে দিয়েছে। সেখানে চাঁদার দাবিতে একজন বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে তাঁর নিজস্ব অফিসে অবরুদ্ধ করে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং জোরপূর্বক ব্ল্যাঙ্ক চেক ও ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পশুতুল্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম নিচ্ছে।”
জুলাইয়ের রক্তকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র:
ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বিগত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতা এই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেই রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। নিজেদের জীবন বাজি রেখে হাজারো শহীদ রক্ত দিয়েছেন এই দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সেই জুলাইয়ের পবিত্র রক্তকে ব্যর্থ করতে এখনো নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে।”
তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ের চাঁদাবাজদের দমন এবং চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের লাগামহীন বাজার এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে। তাই অবিলম্বে ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।
১০ জুলাইয়ের রাজপথের কর্মসূচি:
ভারতীয় আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো এবং জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১০ জুলাই, শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এক বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)।


