আওয়ামী লীগের সব অপরাধের বিচার হবে
আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরের অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অপরাধ প্রমাণিত হলে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
গত ১৫ বছরের শাসন আমলে দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ যেসব অপরাধ করেছে, তার সবকিছুর বিচার সুনির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ রোববার (৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। তারা দলগতভাবে নানা রকম মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিল। দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাদের প্রতিটি অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া:
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মো. আমিনুল ইসলাম আরও জানান, জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সরাসরি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় এই তদন্তে দলটির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে, আদালতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে।
একই সাথে তিনি স্পষ্ট করেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও গণ-নিপীড়নের ঘটনাসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
‘রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের দাফন হয়ে গেছে’:
এদিকে, ট্রাইব্যুনালের এই ব্রিফিংয়ের ঠিক আগের দিন গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) এক জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বর্তমান কার্যক্রমের মাধ্যমে কার্যত নিষিদ্ধ ও বিতর্কিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো দিন রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না। আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত রাজনৈতিক পতন ঘটে গেছে। রাজনৈতিকভাবে এ দেশে তাদের চিরতরে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।”
প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের এই যৌথ তৎপরতা এটাই ইঙ্গিত করে যে, পতিত স্বৈরাচারী দলটির বিগত আমলের অনিয়ম ও সহিংসতার বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।


