ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সে দেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মূল্যবান বন্ধু ও অংশীদার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) ওয়াশিংটনে পাঠানো এক বিশেষ কূটনৈতিক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সরকার, এদেশের জনগণ এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে আপনাকে ও আপনার দেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি—আপনার বাস্তবমুখী, দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে আগামী দশকগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে আরও অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের পথে এগিয়ে যাবে।”
‘আমেরিকা ২৫০’ বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণা:
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই গৌরবময় উপলক্ষটি উদযাপন করছে, তখন ‘আমেরিকা ২৫০’ উৎসব সারা বিশ্বের মানুষকে মার্কিন স্বপ্ন, ত্যাগ, স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনবদ্য অবদান থেকে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
পাঁচ দশকের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব:
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী এবং বহুমুখী সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও উন্নয়ন যাত্রায় এক অত্যন্ত মূল্যবান বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। গত পাঁচ দশকে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উচ্চশিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগের (People-to-People Contact) মাধ্যমে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে।”
সম্পর্কের নতুন অধ্যায় ও রোহিঙ্গা সংকট:
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চলতি ২০২৬ বছরের শুরু থেকেই বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের একটি সম্পূর্ণ নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায় সূচিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও মানবিক মহানুভবতার জন্য মার্কিন প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ভবিষ্যত অঙ্গীকার:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি এবং আমার সরকার অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে আমাদের এই অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যতে আরও সুসংহত, বিস্তৃত ও গভীর করতে আপনার এবং আপনার নতুন প্রশাসনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
শুভেচ্ছা বার্তার পরিশেষে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন এবং বন্ধুপ্রতিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য টেকসই শান্তি, অব্যাহত সমৃদ্ধি ও সুখের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


