সিএনজি-অটোরিকশা চলাচলে সিএমপির ৫ নির্দেশনা
চট্টগ্রাম নগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে অবৈধ টোকেন বাণিজ্য ও যত্রতত্র পার্কিং নিষিদ্ধ করে ৫টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সিএমপি।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সড়কগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা রক্ষা ও তীব্র যানজট নিরসনে ৫টি বিশেষ ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। একই সাথে সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশের এই নির্দেশনাসমূহ অমান্য করলে গাড়ি আটকসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) বিকেল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়কের পাশে, পিসিও বক্স ও ফুটওভারব্রিজে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে এই নির্দেশনাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করতে দেখা যায়।
সিএমপির জারিকৃত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা নিচে দেওয়া হলো:
১. পুলিশের নামে টোকেন বাণিজ্য নিষিদ্ধ: সিএমপি বা ট্রাফিক পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অবৈধ ‘টোকেন’ বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। টোকেন বিক্রির সঙ্গে কোনো ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো গাড়িতে অবৈধ টোকেন প্রদর্শন করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি আটক করা হবে।
২. চালকদের প্রতি সতর্কবার্তা: সড়কে অবৈধভাবে চলাচলের উদ্দেশ্যে টাকার বিনিময়ে কোনো ধরনের টোকেন গ্রহণ না করতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, অটোরিকশায় টোকেন প্রদানের সঙ্গে পুলিশের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
৩. যত্রতত্র পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা: যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট স্থান (স্ট্যান্ড) ছাড়া যেখানে-সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পার্কিং করে সড়কে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা বা যানজট সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট গাড়িটি তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হবে।
৪. মেট্রো এলাকায় ‘অনটেস্ট’ ও ‘গ্রাম সিএনজি’ নিষিদ্ধ: জেলা বা গ্রাম এলাকার জন্য নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা এবং ‘অনটেস্ট’ (নিবন্ধনহীন) কোনো সিএনজি অটোরিকশা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় চলাচল করতে পারবে না। এছাড়া সড়কে চলাচলের সময় প্রয়োজনীয় হালনাগাদ কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হলেও গাড়ি জব্দ করা হবে।
৫. ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর কড়াকড়ি: ব্যাটারিচালিত রিকশা বা অটোরিকশা কোনোভাবেই নগরীর মূল বা ভিআইপি সড়কে প্রবেশ করতে পারবে না। উল্টো পথে (রং সাইড) চলাচল করলে কিংবা ফ্লাইওভার ও সেতুতে ওঠার চেষ্টা করলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ওইসব গাড়ি সরাসরি আটক করা হবে।
আইন অমান্য করলেই কঠোর ব্যবস্থা:
সিএমপির ট্রাফিক-বন্দর বিভাগ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, নগরীর সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ৫টি নির্দেশনা অমান্য করে কোনো চালক বা মালিক নিয়ম ভঙ্গ করলে মোটরযান আইন অনুযায়ী গাড়ি ডাম্পিং করাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রাফিক বিভাগের এই বিশেষ অভিযান এখন থেকে নিয়মিত চলবে।


