গাজায় জানাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ১৪

নামমাত্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা থামেনি। মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি জানাজার মিছিলে ড্রোন হামলায় ৮ জনসহ গাজায় একদিনেই নিহত হয়েছেন ১৪ ফিলিস্তিনি।

Jul 18, 2026 - 12:07
 0  4
গাজায় জানাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ১৪
×

গত বছরের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় নামমাত্র ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পরও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা ও রক্তক্ষরণ থামেনি। গাজা জুড়ে চালানো একাধিক পাশবিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি জানাজার মিছিলে সরাসরি ড্রোন হামলায় নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন।

​আজ শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মসজিদের সামনে জানাজার মিছিলে ড্রোন হামলা:

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার নামাজের জন্য নুসেইরাতের আহমদ ইয়াসিন মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় শোকাহত বাসিন্দারা। নামাজ শেষে জানাজার মিছিলটি কবরস্থানের দিকে বের হওয়ার মুহূর্তেই জনতাকে লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে সরাসরি বোমাবর্ষণ করা হয়।

​এতে মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন। আল-আওদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

​গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা হানি মাহমুদ বলেন, “গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতির কোনো তোয়াক্কাই করছে না ইসরায়েল। মানুষ যখন মসজিদ থেকে জানাজা শেষ করে মরদেহ নিয়ে বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কোনো উসকানি ছাড়াই মিছিলের মাঝখানে ড্রোন হামলা চালানো হয়।”

​এদিকে হামলার বিষয়টি বরাবরের মতোই স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি—তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী আস্তানা’ লক্ষ্য করে এই নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। তবে জানাজার মিছিলে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবরটি তারা লোকদেখানো ‘খতিয়ে দেখছে’ বলে জানিয়েছে।

তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামাসের বিবৃতি:

এই নৃশংস ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীদের চোখের সামনে চুক্তি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে।”

গাজাজুড়ে অব্যাহত বোমাবর্ষণ:

জানাজায় হামলা ছাড়াও গতকাল শুক্রবার গাজার অন্যান্য অংশেও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে:

​উত্তরের বেইত লাহিয়া: একটি স্কুলের পাশে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হন।

​আজ-জাওয়াইদা ও আল-সাওয়ারহা: বাস্তুচ্যুত নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থলে বিমান হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

​গাজা সিটি: একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

ভয়াবহ তথ্য: প্রতিদিন গড়ে একটি শিশু হত্যা করছে ইসরায়েল:

আমেরিকাভিত্তিক যুদ্ধ গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি (ACLED)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার পরও গত মে মাস থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। কেবল গত মাসেই ইসরায়েল গাজায় ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ।

​অন্যদিকে, খোদ ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’ (Haaretz) গত শুক্রবার এক চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ২৭৪ জন শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অর্থাৎ, গাজায় প্রতিদিন গড়ে একটি করে নিষ্পাপ শিশু হত্যা করা এখন ইসরায়েলি খুনে সেনাদের কাছে ‘নৈমিত্তিক ও সাধারণ বিষয়ে’ পরিণত হয়েছে।