চীনের সহায়তা পেলে দেশ এগিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিপুল বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানে চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি

Jul 18, 2026 - 16:09
 0  3
চীনের সহায়তা পেলে দেশ এগিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল
×

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের অভূতপূর্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ম্যাজিক্যাল উন্নয়নকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে ২০ কোটি মানুষের এই দেশে বিশাল যুবসমাজ ও প্রায় ৪ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীনের প্রযুক্তি ও সরাসরি বিনিয়োগ এখন অত্যন্ত প্রাকটিক্যাল ও জরুরি।  

​আজ শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক চীন সফরের ওপর ভিত্তি করে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।  

কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক মিল:

দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এমনকি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নির্যাতনের চরম দুর্দিনেও আমরা দলটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছি। চীন কোনো নির্দিষ্ট দলকে নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সবসময় প্রাধান্য দেয়। আমরা আধিপত্যবিরোধী ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের শক্তিশালী ও কার্যকর নেতৃত্ব দেখতে চাই।”  

​তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের হাজার হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী বর্তমানে চীনে পড়াশোনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে যে প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন তৈরি করছে, তা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য শুধু আমদানি নির্ভরতা কমানো নয়; বরং এনার্জি খাত, কারিগরি শিক্ষা, আধুনিক কৃষি ও হাইস্পিড যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে চীনকে আমরা আরও কার্যকর ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে পাশে চাই।”  

ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তি জিয়াউর রহমান:

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সুদৃঢ় ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী হাত ধরেই এই দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক অনন্য নতুন মাত্রা পেয়েছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে তা আরও বেগবান ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে সেই মৈত্রীর বন্ধন এখন এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।”  

ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও চীনা রাষ্ট্রদূতের আশ্বাস:

দেশের পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল বলেন, “জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমরা চীনের সাথে ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক যেমন জোরদার করব, তেমনি প্রতিবেশী ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সুষম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখব।”

  

​সেমিনারে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল চীন সফর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি এনেছে। চীন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে হাইস্পিড বা বুলেট ট্রেন প্রযুক্তি বাস্তবায়নে অত্যন্ত আগ্রহী।” একই সাথে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

  

সেমিনারে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ:

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ জোট ও কূটনৈতিক মহলের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ।