অপরিকল্পিত নগরায়ণ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিন: ইসলামী আন্দোলন

রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে ত্রাণমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

Jul 17, 2026 - 21:49
 0  5
অপরিকল্পিত নগরায়ণ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিন: ইসলামী আন্দোলন
×

রাজধানী ঢাকার তীব্র জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির নেতারা বলেছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কালো থাবার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানী ঢাকা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তারা চট্টগ্রামে সৃষ্ট বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের চরম ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

​আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের দ্বিবার্ষিক অডিট ও মূল্যায়ন সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। নগর সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি সঞ্চালনা করেন নগর সেক্রেটারি আলহাজ আবদুল আউয়াল মজুমদার।

জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ:

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান বলেন, “একটি স্বাধীন দেশের রাজধানীর পরিবেশ, আধুনিক অবকাঠামো, শিল্পকারখানা, সুষম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপরই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক চিত্র প্রতিফলিত হয়। কিন্তু ঢাকার বর্তমান অবস্থা সেই আধুনিক মানদণ্ডে অত্যন্ত হতাশাজনক ও লজ্জাজনক।”

​তিনি আরও বলেন, “অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সামান্য মৌসুমি বৃষ্টিতেই পুরো রাজধানী জলমগ্ন হয়ে পড়ে, যা কোনো সভ্য দেশে গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। নগরবাসীকে এই দুঃসহ জীবন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কালো থাবা থেকে মুক্তি দিতে আমরা সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

চট্টগ্রামের বন্যা ও ত্রাণমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি:

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা নগর সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম দেশের বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রতিবছর প্রতিবেশী দেশের অবন্ধুসুলভ আচরণ, একতরফা পানি নীতি এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ যথাযথ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিচ্ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা ও অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

​তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, “চলমান বন্যায় চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সৃষ্ট মানবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। জনগণের এই চরম দুর্ভোগের প্রতি তথাকথিত জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তিনি অনতিবিলম্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:

দ্বিবার্ষিক এই অডিট ও মূল্যায়ন সভায় মহানগরের সামগ্রিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—নগর সহ-সভাপতি আলহাজ আলতাফ হোসেন ও আলহাজ আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক মৃধা, অর্থ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলামুর রহমান আজম, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নাজিমুদ্দিন, মুফতি আবদুল আহাদ, কার্যনির্বাহী সদস্য হাফেজ সালাহউদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা এবং মুফতি নাজির আহমাদ শিবলিসহ মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।