সীমান্ত সুরক্ষা ও হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ
ভারতে মুসলিম নির্যাতন, সীমান্তে অবৈধ পুশইন, গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণ এবং হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।
ভারতে মুসলিম নির্যাতন, সীমান্তে অবৈধ পুশইন, গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদ এবং বিতর্কিত সংগঠন ‘হেযবুত তওহীদ’কে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজশাহীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সোনাদিঘী মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা ভারতে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন, মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুর এবং সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানান। তারা বলেন, "প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসী আচরণ এবং সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করতে হবে।"
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শিক্ষা সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, সংস্কারের নামে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়নের চেষ্টা করা হলে দেশের তৌহিদী জনতা তা কখনোই মেনে নেবে না। একই সঙ্গে সদ্য ঘোষিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বক্তারা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম রাখার তাগিদ দেন, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা দাবি করেন, মুসলিম প্রধান দেশে এমন উদ্যোগ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। অবিলম্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে মূর্তি স্থাপন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি হেযবুত তওহীদকে একটি বিভ্রান্ত ও বিতর্কিত সংগঠন উল্লেখ করে সেটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করার জোর দাবি তোলা হয়।
দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও দূরবার কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করা হয়।
উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন—রাজশাহী মহানগর খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মুফতি জমির হোসেন জমিরী, সহ-সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালহা, যুববিষয়ক সম্পাদক মীর ফরহাদ, হেফাজতে ইসলামের জেলা যুববিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুজ্জামান, সদস্য হাফেজ মাওলানা হোসায়েন আহমেদ দেওয়ান এবং ছাত্রবিষয়ক সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মুসল্লিরা।


