শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো অভিযানকে 'গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগপত্র জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুর করিম ও মার্জিনা রায়হান।
আজই ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই চার্জের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানির কথা রয়েছে।
গ্রেফতার ৯ আসামি
হাইপ্রোফাইল এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ইতোমধ্যে মোট ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
ডা. দীপু মনি — সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী।
শামসুল হক টুকু — সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান — সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা।
এ কে এম শহিদুল হক — সাবেক আইজিপি।
শাহরিয়ার কবির — সভাপতি, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলী।
মোল্যা নজরুল ইসলাম — সাবেক ডিআইজি।
আবদুল জলিল মণ্ডল — সাবেক ডিআইজি।
মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা — সিনিয়র সাংবাদিক।
চার স্থানে ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে পরিচালিত 'অপারেশন সিকিউর সেফটি' ও এর পরবর্তী অভিযানে নিহতের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সর্বমোট ৫৮ জনের সুনির্দিষ্ট পরিচয়ের প্রমাণ পেয়েছে।
এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই নিহত হন ৩২ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর তথ্য নথিপত্রসহ আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পেছনের ইতিহাস ও পুনরুজ্জীবিত বিচার প্রক্রিয়া
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর অবরুদ্ধ করে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। সে রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়।
দীর্ঘদিন ধামাচাপা পড়ে থাকা এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন গতি পায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ শীর্ষ ৪১ জনকে এতে মূল নির্দেশদাতা ও রূপকার হিসেবে আসামি করা হয়েছে।


