আগামী সপ্তাহ থেকে কমবে গ্যাস সংকট: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ ৫০ শতাংশ স্বাভাবিক হবে এবং পরবর্তী সপ্তাহে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম।

Jul 27, 2026 - 18:37
 0  5
আগামী সপ্তাহ থেকে কমবে গ্যাস সংকট: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
×

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে এই সংকট কমতে শুরু করবে।

​আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী দেশের বর্তমান গ্যাস সরবরাহ ও সংকটের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

গ্যাসের বর্তমান চাহিদা ও যোগান

​প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানান, গত সপ্তাহ থেকে দেশে হঠাৎ গ্যাস সংকট দেখা দেয় এবং সময়ের সঙ্গে এর তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।

​তিনি তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, “বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের সার্বিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে আমরা সরবরাহ করতে পারছি প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই সরবরাহের মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক উৎপাদিত হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং অবশিষ্ট অংশ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে পূরণ করা হচ্ছিল।”

টার্মিনালে বিস্ফোরণ ও মেরামত কার্যক্রম

​প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’র পরিচালিত একটি এফএসআরইউ (FSRU)-তে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি ঘটায় আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

​তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এফএসআরইউ-টির বয়লারে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুরুতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশা করা হলেও জটিলতা বেশি থাকায় ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ এনে মেরামত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নিয়মিত বিরতিতে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে সরকার যোগাযোগ রক্ষা করছে।”

​আশা ও ঘুরে দাঁড়ানোর সময়সীমা

​প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আশ্বাস দিয়ে বলেন, “전문কারা দিনরাত কাজ করছেন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে। আর এর পরের সপ্তাহে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।”

বিকল্প পরিকল্পনা ও স্বল্প-দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ

​গ্যাস সংকট সামাল দিতে নেওয়া বহুমুখী উদ্যোগের কথা জানিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভোলার গ্যাসক্ষেত্রে থাকা উদ্বৃত্ত গ্যাস জাতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বড় বড় শিল্পকারখানায় পৌঁছানোর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে আইএসও (ISO) ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।”

​পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, “দীর্ঘদিন ধরে দেশের জ্বালানি খাতে পরিকল্পিত টেকসই বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখার তীব্র ঘাটতি ছিল। পূর্ববর্তী সরকারগুলো স্থায়ী সমাধানের দিকে না গিয়ে শুধু তাৎক্ষণিক ও ক্ষণস্থায়ী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকায় আজকের এই সংকট আরও বেশি প্রকট রূপ নিয়েছে। তবে আমরা স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”