ভারতে মুসলিমদের অধিকার ও আইনি সহায়তায় পরামর্শক কমিটি হচ্ছে

ভারতে মুসলিমদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও আইনি সহায়তা জোরদারে ৫১ সদস্যের জাতীয় পরামর্শক এবং ১১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Jul 26, 2026 - 22:50
 0  4
ভারতে মুসলিমদের অধিকার ও আইনি সহায়তায় পরামর্শক কমিটি হচ্ছে
×

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বহুমুখী সমস্যা মোকাবিলা, সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আইনি সহায়তা জোরদার করার লক্ষ্যে ৫১ সদস্যের একটি ‘জাতীয় পরামর্শক কমিটি’ এবং ১১ সদস্যের একটি ‘কার্যনির্বাহী কমিটি’ গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​গত শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক 'কনস্টিটিউশন ক্লাব'-এ অনুষ্ঠিত "ভারতীয় মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় পরামর্শ" শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের কনভেনশনে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভাটির আয়োজন করে মানবাধিকারবিষয়ক সামাজিক সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান মুসলিমস ফর সিভিল রাইটস’ (IMCR)।

পরামর্শক কমিটির কার্যপরিধি ও উদ্দেশ্য

​সংগঠনটির প্রভাবশালী নেতা আজম বেগ সাংবাদিকদের জানান, নবগঠিত উচ্চপর্যায়ের এই পরামর্শক কমিটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, বুলডোজার সংস্কৃতি, গণপিটুনি, মুসলিম যুবকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি মামলা, ঐতিহ্যবাহী মসজিদ-মাদরাসা ভাঙার অভিযোগ এবং মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঐতিহ্যবাহী মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনি সংকটগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

​একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত উপায়ে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টগুলোতে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মাধ্যমে আইনি লড়াই পরিচালনার উদ্যোগ নেবে।

​'রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, মূল লক্ষ্য আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াই'

​আজম বেগ স্পষ্ট করেন, “এই কনভেনশন থেকে কোনো প্রকার রাজপথের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা আন্দোলন ঘোষণা করা হয়নি। বরং ভুক্তভোগী ও নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা প্রদান, গণতান্ত্রিক উপায়ে সাংবিধানিক অধিকার আদায় এবং দেশের অন্যান্য অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমন্বয় রেখে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

১১০টি সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব ও শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি

​তিনি আরও জানান, এই কনভেনশনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ১১০টি প্রধান ইসলামী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (AIMIM) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ছাড়া দেশটির প্রায় সব শীর্ষ রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব এতে উপস্থিত ছিলেন।

​সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার (SDPI) জাতীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফি বলেন, সভায় বিভিন্ন রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) বাস্তবায়নের সরকারি উদ্যোগ, রাজ্য ভেদে মাদরাসা নিয়ন্ত্রণ আইন, মুসলিমদের নিরাপত্তা এবং লোকসভা ও বিধানসভায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্রমহ্রাসমান হার নিয়ে প্রতিনিধিরা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সভার উল্লেখযোগ্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ

​নয়াদিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কনভেনশনে ভারতের রাজনীতি, আইন ও সামাজিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা সংহতি জানান। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

​ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি — জম্মু-কাশ্মিরের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী।

​সালমান খুরশিদ — ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী।

​ইকরা হাসান, মহিবুল্লাহ নদভি, ইমরান মাসুদ, জিয়াউর রহমান বারক — ভারতের জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি)।

​মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খান আজমী — সহ-সভাপতি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড।

​সৈয়দ সরওয়ার চিশতী — আজমির শরীফের প্রখ্যাত সুফি নেতা।

​আবু আসিম আজমী — মহারাষ্ট্র রাজ্য বিধানসভার সদস্য।