ইরানি নির্দেশনা না মেনে এগোচ্ছিল ট্যাংকার, ভয়াবহ বিস্ফোরণ
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নির্ধারিত নৌপথ না মেনে পথ চলায় মাইনের আঘাতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নির্দেশিত নির্ধারিত নৌপথ না মেনে চলার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা 'মেহর নিউজ এজেন্সির' বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে চলাচলের সময় ট্যাংকারটি ইরানের নির্ধারিত সেফ রুট থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং সমুদ্রের মাইনের আঘাতের মুখে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটির নাম, জাতীয়তা, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি তেহরান।
হরমুজ প্রণালীর নতুন নৌ-নিয়ম
এর আগে গত ২৬ জুন ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক সকল নৌ-চলাচল কেবল তেহরান নির্ধারিত নির্দিষ্ট সমুদ্রপথ ব্যবহার করেই সম্পন্ন করতে হবে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলঘেঁষা নির্ধারিত পথ দিয়ে চলতে হবে এবং তেহরানের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌ-নির্দেশনা ব্যবস্থা (Navigational Guidance System) কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
তবে ওয়াশিংটন ইরানের এই একক সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক আইনেই অবাধ নৌ-চলাচলের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের চরম অবনতি
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ইরানি ভূখণ্ডে হামলার চালিয়েছিল এবং এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টাধাওয়া ও হামলার দাবি করে।
সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আগের মাসে স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) একতরফাভাবে বাতিল ঘোষণা করেন। তেহরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তিনি এই পদক্ষেপ নেন।
বাণিজ্যে মারাত্মক হুমকির শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি অবস্থানের মাঝে হরমুজ প্রণালীতে একের পর এক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা বিশ্ব তেল সরবরাহ ও সার্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের নিয়ম নিয়ে দুই দেশের এই বিরোধ আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


