আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নন, জামায়াতিপন্থী-মৌলবাদী: শুভেন্দু

ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস আন্দোলনের সহিংসতায় জামায়াতপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীর যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

Jul 26, 2026 - 20:50
 0  4
আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নন, জামায়াতিপন্থী-মৌলবাদী: শুভেন্দু
×

ভারতে চিকিৎসা সংক্রান্ত জাতীয় ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থী মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর ইন্ধন থাকতে পারে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

​তাঁর তীব্র দাবি—বিক্ষোভ ও সহিংসতায় জড়িত থাকা ব্যক্তিদের সিংহভাগই কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী নয়, বরং তারা জামায়াতপন্থী চরমপন্থী মৌলবাদী। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো বিদেশি শক্তির অর্থায়ন ও ষড়যৌগিক সমর্থন রয়েছে কিনা, তা নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থাগুলোর গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।

​আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যারা সহিংসতা চালিয়েছে, তাদের সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার্থী বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা শিক্ষার্থী নয়, স্পষ্টতই জামায়াতী ইসলামপন্থী মৌলবাদী চক্র। তাদের পেছনে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের ইন্ধন ছিল কি না, সুষ্ঠু তদন্তেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

বিধানসভার বক্তব্য ও 'অ্যান্টি-গুন্ডা' আইন

​গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভকালে বামপন্থী সমর্থিত আন্দোলনকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

​এ ঘটনার পরপরই সহিংসতায় অভিযুক্তদের দমনে রাজ্যের সদ্য প্রণীত কঠোর ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

​সহিংসতাকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যারা পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের এমন কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও আজীবন মনে রাখবে।”

​এর আগে বিধানসভার অধিবেশনেও তিনি জোর দাবি করেছিলেন, পুলিশি সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জন দাঙ্গাকারীর একজনও প্রকৃত শিক্ষার্থী নয় এবং নিট পরীক্ষার আন্দোলনের সঙ্গেও তাদের কোনো আদর্শিক সম্পর্ক নেই।

রাজনৈতিক ক্ষোভের প্রেক্ষাপট ও গণমাধ্যমে হামলা

​শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্লেষণ মতে, রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ মাদরাসার বিরুদ্ধে সরকারি কঠোর পদক্ষেপ, ওবিসি (OBC) সনদ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, অবৈধ গবাদিপশু জবাই আইন প্রয়োগ এবং উচ্চ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের ওপর ভর করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই সহিংসতা উসকে দিয়েছে।

​বিক্ষোভ চলাকালীন পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মীদের ওপর হামলাই এর প্রমাণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে প্রাণনাশের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

​লোকসভায় নতুন কঠোর সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি

​এদিকে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির স্থায়ী সমাধানের লক্ষে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আগামী সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ পাসের জন্য তোলার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে যা যা থাকছে:

​ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত: প্রতিটি রাজ্যে প্রশ্ন ফাঁসের মামলা দ্রুগ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন।

​তদন্তের সময়সীমা: সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করা বাধ্যতামূলক।

​দণ্ডবিধি: দোষীদের জন্য সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

​অপরদিকে, আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী মূল সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার তাদের টানা ৩৬ দিনের অনড় রাজপথ আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা নিশ্চিত করেন যে, ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং তাদের অন্যান্য ন্যায্য দাবি মানতে কেন্দ্র রাজি হওয়ায় তারা রাজপথের কর্মসূচির ইতি টেনেছেন।