ফিলিস্তিনে মসজিদ জ্বালিয়ে দিল অবৈধ ইহুদি বসতকারীরা

ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিমতীরের নাবলুস শহরের কাছে একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উগ্র ইহুদি বসতকারীরা। এ ঘটনার পেছনে প্রতিশোধের অজুহাত তুলে দেওয়া হয়েছে গ্রাফিতি।

Jul 27, 2026 - 13:28
 0  2
ফিলিস্তিনে মসজিদ জ্বালিয়ে দিল অবৈধ ইহুদি বসতকারীরা
×

ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিমতীরের নাবলুস শহরের কাছে কুসরা এলাকায় একটি মসজিদে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উগ্রবাদী অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা।

​রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) ভোরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে।

​ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের অভিযোগ, উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়িতে তাণ্ডব চালানের পর নবনির্মিত একটি মসজিদের দেওয়ালে হিব্রু ভাষায় "বেনায়াহুর প্রতিশোধ নাও" শীর্ষক চরমপন্থি গ্রাফিতি এঁকে দেয়। এরপর তারা মসজিদটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

​'প্রতিশোধ' দাবির পটভূমি

​উগ্রবাদীদের আঁকা গ্রাফিতিতে উল্লিখিত 'বেনায়াহু' মূলত ৩২ বছর বয়সী ইসরায়েলি রিজার্ভ সৈনিক বেনায়াহু মেল্লেত।

​গত শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ফিলিস্তিনি গ্রাম তালের কাছে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল হামলা চালাতে এলে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সেই ঘটনায় ৪ জন ফিলিস্তিনি এবং ২ জন ইসরায়েলি সেনাসদস্য প্রাণ হারান। বেনায়াহু ছিলেন নিহতদের অন্যতম।

​ফিলিস্তিনি গ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বসতি স্থাপনকারীরাই মূল সহিংসতার উসকানি দিয়েছিল। ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বাড়িঘর রক্ষায় আত্মরক্ষার্থে তাদের প্রতিহত করেন।

​'পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস'—ফিলিস্তিন সরকারের নিন্দা

​নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বের কুসরা গ্রামের পরিষদের প্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, রোববার ভোরে বসতি স্থাপনকারীরা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাদের সদ্য নির্মিত মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়।

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক তীব্র বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্র-সমর্থিত বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিমতীর জুড়ে পরিকল্পিত গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ চালানো হচ্ছে।”

নেতানিয়াহু সরকারের অবস্থান ও চরমপন্থি তৎপরতা

​আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ও জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।

​আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু পশ্চিমতীরে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বৃদ্ধি ও সেনাসদস্যদের ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন।

​একই সঙ্গে তাঁর মন্ত্রিসভার কট্টর-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ একাধিক মন্ত্রী ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে দখল করে রাখা সমগ্র পশ্চিমতীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত (Annexation) করার প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া

​এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুসরা গ্রামে তাদের সেনাসদস্যরা পৌঁছানোর পর দেওয়ালে গ্রাফিতি ও অগ্নিকাণ্ডের আলামত দেখতে পেয়েছে।

​বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে, “ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”