যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘটের ডাক

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ ও টোল ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে আগামী ২৮ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে নৌ মালিক ও শ্রমিক সমিতি।

Jul 27, 2026 - 17:45
 0  4
যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘটের ডাক
×

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীপথে বিআইডব্লিউটিএ এবং টোল ট্যাক্সের নামে রসিদ জালিয়াতি ও নজিরবিহীন অতিরিক্ত চাঁদাবাজির প্রতিবাদে আগামী ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যবসায়িক শ্রমিক সমিতি ও নৌ মালিক সমিতি।

​আজ ২৬ জুলাই (রোববার) দুপুর ১২টায় যাদুকাটা নদীর ঘাগরা কুড়ের পাড় এলাকায় যাদুকাটা ব্যবসায়িক শ্রমিক সমিতি ও নৌ মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন ও ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

​এর আগে একই দাবিতে গত ২৫ জুলাই (শনিবার) থেকে জামালগঞ্জ উপজেলার লালপুর স্টোন ক্রাশার মালিক ও শ্রমিক সমিতি সুরমা নদীতে মালামাল লোড-আনলোড ও নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করে আসছে।

টোলের নামে সরকারি হারের তিনগুণ চাঁদাবাজি

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নৌ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন।

​তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পাটলাই নদীর কামালপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে প্রতি ফুট পাথরে সরকার নির্ধারিত ৫০ পয়সার স্থলে জোরপূর্বক ২ টাকা ৮০ পয়সা আদায় করা হচ্ছে। একই স্থানে 'কোটগারি' নাম ভাঙিয়ে ৩০ পয়সার জায়গায় নেওয়া হচ্ছে ১ টাকা। আবার যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর এলাকায় পাথরে প্রতি ফুটে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং টোল ট্যাক্সের নামে বালুতে ৩০ পয়সার জায়গায় ১ টাকা ৩০ পয়সা হারে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র।”

​তিনি আরও জানান, রক্তি নদীর মুখে কোনো বৈধ ইজারা না থাকা সত্ত্বেও খালি নৌকা প্রবেশ করলেই রসিদ ছাড়া প্রতি নৌকা থেকে ৩ হাজার টাকা এবং মালামাল বহনে প্রতি ফুটে ২ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

নিগ্রহ ও বাণিজ্যে স্থবিরতা

​সমিতির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুই নদীর অন্তত ৬টি পয়েন্টে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে নৌ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নৌকা আটকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

​স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজদের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।

​দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে

​সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ২৮ জুলাই মঙ্গলবার থেকে যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে সকল ধরনের বালু-পাথর লোড-আনলোড এবং নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সরকারের নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত চাঁদাবাজি স্থায়ীভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন:

​মুহাম্মাদ হাকিকুল ইসলাম — সাধারণ সম্পাদক, যাদুকাটা ব্যবসায়িক শ্রমিক সমিতি।

​মুহাম্মাদ সিদ্দিক মিয়া — সাধারণ সম্পাদক, নৌ পরিবহন মালিক সমিতি।

​মুহাম্মাদ শামছুল হক ও মুবাশ্বির আলম হিমেল — সদস্য, নৌ মালিক সমিতি।

​নুরুদ্দিন — সদস্য, স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতি।