আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের মধুর সম্পর্ক তিক্ত হলো কীভাবে?

একসময়ের মিত্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক এখন তিক্ত ও অনিশ্চিত। সীমান্ত বিরোধ, টিটিপি ইস্যু এবং সাম্প্রতিক সামরিক অ/ভিযানের বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

Feb 27, 2026 - 13:00
 0  17
আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের মধুর সম্পর্ক তিক্ত হলো কীভাবে?
×

সীমান্তে টানা উত্তেজনার মধ্যে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অ/ভিযানের দাবি করেছে পাকিস্তান। একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র এই দুই দেশের সম্পর্ক এখন চরম তিক্ততা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অপারেশন গজব লিল হক: পাল্টাপাল্টি দাবি

​পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে চালানো অ/ভিযানে আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধবংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে ৮০টিরও বেশি ট্যাংক, কামান ও এপিসি ধবংস করা হয়েছে।

​অন্যদিকে তালেবানের দাবি, তারা পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি ও দুটি ঘাঁটি দখল করেছে এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নি/হত হয়েছেন। যদিও উভয় পক্ষের এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আশাবাদ থেকে চরম অবিশ্বাস

​২০২১ সালের আগস্টে তালেবান কাবুলের ক্ষমতায় ফিরলে পাকিস্তান একে তাদের ‘কৌশলগত সাফল্য’ হিসেবে দেখেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বিষয়টিকে আফগানদের ‘দাসত্বের শিকল ভাঙা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু দ্রুতই সেই উষ্ণতা ফিকে হতে শুরু করে। ২০২৪ সাল নাগাদ পাকিস্তান কয়েক দফা আফগানিস্তানে বিমান হা/মলা চালায়, যা কাবুলের দৃষ্টিতে সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন।

সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার প্রধান কারণসমূহ

​১. ডুরান্ড লাইন ইস্যু: ঔপনিবেশিক আমলের এই সীমান্ত পাকিস্তান মেনে নিলেও আফগানিস্তান কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। তালেবানও এই সীমান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় কাঁটাতার ও চৌকি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

​২. টিটিপি ইস্যু: ইসলামাবাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) পাকিস্তানে স/ন্ত্রাসী হা/মলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান একে পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছে।

​৩. প্রভাব কমানোর চেষ্টা: ক্ষমতায় আসার পর তালেবান পাকিস্তানের সরাসরি প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের স্বাধীন অবস্থান তৈরি করতে চাইছে, যা ইসলামাবাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক প্রভাব

​বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপ আফগানদের মধ্যে পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব আরও বাড়িয়ে দেবে। একইসঙ্গে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা পশতুন জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এর প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

​সব মিলিয়ে একসময়ের মিত্র দুই পক্ষ এখন অবিশ্বাস, সীমান্ত বিরোধ ও সামরিক পদক্ষেপের এক জটিল সমীকরণে আটকে গেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথা থাকলেও বাস্তবতা বলছে, সম্পর্ক এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে।