রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদ সচিবালয়ে ভোটার তালিকা চেয়েছে ইসি
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কাছে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তালিকা পেলেই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিক ভোটার তালিকা সরবরাহের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। সংসদ সদস্যদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হাতে পাওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ ও আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব বলেন, “আমরা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। ওনারা আমাদের সেই ভোটার তালিকা দেবেন। তালিকা চূড়ান্তভাবে আমাদের হাতে আসার পরই কমিশন বৈঠকে বসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ ও তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকেই নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ইতোমধ্যে সংসদের বিজ্ঞ স্পিকারের সাথে বৈঠক শেষ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যগণই (এমপি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। ফলে স্পিকারের সুপারিশকৃত সংসদ সদস্যদের নাম নিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।
এনআইডি সংশোধনে কড়াকড়ি ও অযৌক্তিক আবেদনের চিত্র
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়ার অনিয়ম রোধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ ও নির্ভুল করতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও কাজের সুবিধার্থে এখনো মানসম্মত কার্যপদ্ধতি (SOP) তৈরি করা হচ্ছে।
ইসি সচিব একটি উদ্ভট আবেদনের উদাহরণ টেনে বলেন, “গতকাল এক ব্যক্তি জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিয়ে এসেছেন। কিন্তু আবেদনকারী যে নতুন বয়স (ডিসেম্বর ২০০৮) দাবি করছেন, হিসাব অনুযায়ী ২০০৮ সালে এনআইডি যখন প্রবর্তন করা হয় তখন তার বয়স দাঁড়ায় মাত্র ৭ বছর ৪ মাস! এখন ৭ বছর ৪ মাসের কোনো শিশুকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করলে নাকি কমিশন অপরাধী হয়ে যায়! এ ধরনের অযৌক্তিক দাবি আমরা মেনে নিতে পারি না।”
ডকুমেন্টসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার তাগিদ
এনআইডি, পাসপোর্ট ও জন্ম সনদের তথ্য মেলানোর গুরুত্ব তুলে ধরে ইসি সচিব জানান, “পাসপোর্ট হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নথি (Travel Document) এবং এনআইডি হচ্ছে দেশের জাতীয় পরিচয় দলিল। আমাদের এনআইডি সিস্টেম মূলত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় এবং পাসপোর্টের ডেটা নির্ভর করে এনআইডির ওপর। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সরকারি চেইন। তাই সব নথিতে তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা বাধ্যতামূলক।


