পায়ে হেঁটে হজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের পথে নাটোরের দুলাল হোসেন
পবিত্র হজের স্বপ্ন পূরণে বিমানে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় অনন্য এক বিশ্বাস ও ইচ্ছা নিয়ে নাটোরের সিংড়া থেকে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কা নগরীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন ৪৫ বছর বয়সী দুলাল হোসেন।
বুকে পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারতের অধীর ব্যাকুলতা ও পবিত্র হজ পালনের অদম্য স্বপ্ন নিয়ে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কা নগরীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন নাটোরের সন্তান দুলাল হোসেন (৪৫)।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) ভোরে নিজ গ্রাম থেকে স্বজন, পরিবার ও শত শত এলাকাবাসীর আন্তরিক দোয়া, অশ্রুসজল বিদায় ও শুভকামনা নিয়ে ঐতিহাসিক এই দীর্ঘ যাত্রার সূচনা করেন তিনি।
দুলাল হোসেন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচোরা গ্রামের প্রয়াত মকসেদ আলী ও পিয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে।
পারিবারিক সূত্র ও স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হেঁটে মক্কায় গিয়ে বাইতুল্লাহ তওয়াফ করার স্বপ্ন লালন করছিলেন দুলাল। তবে সাধারণ গ্রামীণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য হওয়ায় বিমানে বিপুল খরচ দিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার আর্থিক সামর্থ্য তাঁর ছিল না। সেই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দমে না গিয়ে সৃষ্টিকর্তার ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেন তিনি।
দুলাল হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নেই, তাই আকাশপথে হজে যাওয়ার বিশাল ব্যয় বহন করা বাবার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে বাবার ইচ্ছা ও বিশ্বাসের কাছে কোনো বাঁধাই টেকেনি। প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্র ও পাসপোর্ট সাথে নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে বাবা এই সফরে বের হয়েছেন।”
'সবার কাছে দোয়া চাই, সীমান্ত পারাপারে সরকারি সহযোগিতা প্রার্থনা'
সফরের শুরুতে আবেগাপ্লুত দুলাল হোসেন বলেন, “জীবনের একটাই শেষ ইচ্ছা—আল্লাহর পবিত্র ঘর বায়তুল্লাহ নিজ চোখে দেখা এবং সেখানে গিয়ে হজ করা। সাধারণ মানুষ হিসেবে আকাশপথের এত খরচ আমার সাধ্যের বাইরে। তাই মহান আল্লাহর ওপর পুরোপুরি ভরসা রেখে হেঁটে রওনা হলাম। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ—সব বৈধ কাগজপত্র যেন আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলোতে কোনো বাধার মুখে না পড়ে, সেই ব্যবস্থা করবেন। আমি সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।”


