গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও স্থায়ী সংস্কারের দাবি মামুনুল হকের
বগুড়ায় নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, দুর্বল সংশোধন নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর ও স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, সংবিধানের দুর্বল সংশোধন নয়, এমন কার্যকর ও স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই হবে এবং পরবর্তী কোনো সরকার সহজে বাতিল করতে পারবে না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার সাতমাথার খোকন পার্কে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “আমরা দুর্বল কোনো সংশোধন চাই না; আমরা এমন সংস্কার চাই, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর ও স্থায়ী হবে।”
তিনি বলেন, সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন শুধু সংশোধনের মাধ্যমে করা হলে পরবর্তী সরকার চাইলে তা পরিবর্তন বা বাতিল করে দিতে পারে। তাই স্থায়ী ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ কোনো সরকার সহজে তা পরিবর্তন করতে না পারে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে দেওয়া গণভোটের রায় উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। একই নির্বাচন কমিশন, একই তফসিল ও একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে একটি নির্বাচন ও তার ফলাফলকে বৈধ দাবি করে অন্যটিকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই।
মামুনুল হক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনা ও ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হয়েছিল। ক্ষমতায় যাওয়ার পর গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।
তিনি আরও বলেন, “এখনো সময় আছে। সরকারের উচিত বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখানো। জনগণের সামনে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি সরকার পার হয়ে যায় না।”
সরকারের বৈধতা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য শুধু রাজনৈতিক দায় নয়, সরকারের বৈধতার স্বার্থেও তা জরুরি। জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করা হলে সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মামুন রাহমানী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোশাররফ হুসাইন লাবীব এবং বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল আহাদ।
এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল এবং বগুড়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।


