নিম্নচাপে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়ার আভাস

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। সারাদেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

Aug 13, 2026 - 22:38
 0  2
নিম্নচাপে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়ার আভাস
×

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও পরবর্তীতে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াসহ প্রবল বর্ষণ হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের ৪টি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূল থেকে শুরু করে দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে এই বৃষ্টির তীব্রতা ১৯ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

​সংস্থার সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে স্থল নিম্নচাপ আকারে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে শুক্রবার সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হবে। তবে ১৫ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চলতি মাসজুড়েই বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

​সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের নদী বন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

​বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে। এ ছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩৭, কুতুবদিয়া ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ১১৩, ভোলায় ৮০ এবং চট্টগ্রামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে ৩৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় ছিল ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

​আবহাওয়া অফিসের সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

​এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।