৫০১ রিসোর্ট কাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন মাওলানা মামুনুল হক

২০২১ সালের ৩রা এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষের ঘটনা নিয়ে নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি এটিকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের ‘ব্যর্থ প্রজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Jun 20, 2026 - 12:02
Jun 20, 2026 - 12:03
 0  13
৫০১ রিসোর্ট কাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন মাওলানা মামুনুল হক
×

২০২১ সালের ৩রা এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষে ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘ চার বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছেন ইসলামী বক্তা ও রাজনীতিবিদ মাওলানা মামুনুল হক। তিনি পুরো ঘটনাটিকে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের ‘রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের এক ঘৃণ্য কালো দিবস’ এবং একটি ‘ব্যর্থ প্রজেক্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হয়রানি:

নিজের ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক দাবি করেন, সেদিন তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা)কে নিয়ে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের নেতৃত্বে আওয়ামী সমর্থিত সন্ত্রাসী ও সাংবাদিকদের একটি দল জোরপূর্বক তাদের রুমে ঢুকে লাইভ সম্প্রচার করে এবং চরম হেনস্থা করে। তিনি জানান, সেই সময় পুলিশ কর্মকর্তারা তার ফোন ছিনিয়ে নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে এনএসআই ও ডিজিএফআই কর্মকর্তারা তাদের ওপর অমানবিক চাপ প্রয়োগ করেছিল। তিনি আরও দাবি করেন, হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা রিসোর্টে ঢুকে পড়লে পরিস্থিতির চাপে থাকা পুলিশ সদস্যদের তিনি নিজেই প্রাণভয়ে রক্ষা করেছিলেন।

বিবাহ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক:

জান্নাত আরা (ঝর্ণা)-এর সাথে তার বিবাহের প্রসঙ্গটি টেনে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত একটি বিয়ে ছিল। তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তিনি এই বিয়ে গোপন রেখেছিলেন। মামুনুল হক উল্লেখ করেন, “জান্নাত আরার সাথে আমার বিচ্ছেদ হয়েছে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে, যা হয়েছিল আলোচনার ভিত্তিতে।” তিনি জানান, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের ভিত্তিতে যারা চুক্তিভিত্তিক বা মুতা বিয়ের কথা প্রচার করেছিল, তা ছিল হাসিনার প্রোপাগান্ডা।

​সরকারের ষড়যন্ত্র ও চাপ:

ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে ট্র্যাপে ফেলে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল। তিনি দাবি করেন, জান্নাত আরাকে দীর্ঘ সময় হেফাজতে রেখে তার প্রাক্তন স্বামী হাফেজ শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে মিথ্যা স্টেটমেন্ট দেওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সত্যের খাতিরে তারা কেউ রাজি হননি।

মুবাহালার চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অবস্থান:

নিজের অবস্থানের সত্যতা প্রমাণে তিনি আবারো ‘মুবাহালা’র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে ছোট-বড় যে কোনো ব্যক্তি যদি আমার সাথে এমনতর চ্যালেঞ্জ ও মুবাহালা করার সৎ সাহস রাখে, আমি তার জন্য প্রস্তুত।”

​৫০১ নম্বর কক্ষের নতুন ব্যাখ্যা:

পোস্টের শেষে তিনি বলেন, যে ৫০১ নম্বর কক্ষ নিয়ে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার ও তাদের দোসররা কুৎসা রটিয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছিল, তা আসলে তাদেরই পরাজয়ের দলিল। তিনি ঘোষণা করেন, “৫০১ আমাদের নয়, বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার নির্লজ্জ দোসরদের পরাজয়ের দলিল। আমি এখন থেকে ৫০১-কে আমার বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করলাম।”

​পরিশেষে তিনি তার সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সত্যের পথে অটল থাকা মানুষ কুৎসা রটনাকারীদের পরোয়া করে না। যারা আজ অন্যকে নিয়ে ছিদ্রান্বেষণ করে, তাদেরকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার আহ্বান জানান তিনি। হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরো বলেন, যারা হাসিনার এই অসভ্যতার সাথে সুর মেলাবে, তাদের সামনে আমরা এই ৫০১-এর বার্তা পৌঁছে দেব।