ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় সেল গঠন

ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যাসহ নদ-নদীর দখল ও দূষণ রোধে ৩৭ সদস্যের শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সেল গঠন করেছে সরকার। গঠিত হয়েছে ৩টি বিশেষ সাব-কমিটিও।

Sep 3, 2026 - 18:43
 0  2
ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় সেল গঠন
×

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর অবৈধ দখল ও তীব্র দূষণ রোধ, স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং ইতোমধ্যে দখল হওয়া নদীগুলো পুনরুদ্ধারে উচ্চপর্যায়ের এক ‘কেন্দ্রীয় সেল’ গঠন করেছে সরকার।

​গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট এই কেন্দ্রীয় সেল গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

​প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীসহ সংশ্লিষ্ট খাল ও নালাগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে এই শক্তিশালী সেল কাজ করবে।

​প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে ৩৭ সদস্যের এই সেলের আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সেলের সার্বিক বাস্তবায়নে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা পরিষদ ও সদস্যবৃন্দ

​গঠিত কেন্দ্রীয় সেলের উপদেষ্টা পরিষদে রাখা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; নৌপরিবহন এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের।

​এছাড়া সেলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবগণ, নৌবাহিনীর প্রতিনিধি (রিয়ার অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার কর্মকর্তা), পুলিশের আইজিপি, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, নৌপুলিশের প্রধান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তিন জেলার জেলা প্রশাসকগণ।

​পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করতে এ কমিটিতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্যানারি মালিক সমিতি ও ডকইয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের মনোনীত এনজিও প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়েছে।

কার্যপরিধি ও ৩টি বিশেষ সাব-কমিটি

​দূষণের উৎস চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে স্থায়ী বর্জ্য অপসারণের কাজ তরান্বিত করতে সেলের অধীনে বিশেষ ৩টি সাব-কমিটি গঠন করে কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:

​সাব-কমিটি ১: শিল্পবর্জ্যসহ যাবতীয় বর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধে কাজ করবে।

​সাব-কমিটি ২: খাল ও ড্রেনগুলোর বর্জ্য অপসারণ, নদী পুনরুদ্ধার এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখবে।

​সাব-কমিটি ৩: নদীর তলদেশে যুগের পর যুগ ধরে জমে থাকা স্থায়ী প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য অপসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও পরিচালনা করবে।

​প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গঠিত এই কেন্দ্রীয় সেল প্রতি মাসে নিজেদের গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এবং নিয়মিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গাসহ আশেপাশের নদী রক্ষায় চলমান প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হবে।