হামলা করলে পালটা আঘাত পাবে—যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের স্পিকারের তীব্র হুঁশিয়ারি
দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলায় ৮ সেনা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের স্পিকার গালিবাফ।
ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান পালটা আঘাত হানবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
এক্স পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখনো বুঝতে পারেনি যে দাদাগিরি আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হয়। পরিষ্কার করে বলছি— তোমরা হামলা করলে পালটা আঘাত পাবে।’ হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের নির্ধারিত নিয়মেই চালু থাকবে।’
মার্কিন হামলায় ৮ ইরানি সেনা নিহত
এর আগে, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর এক আকস্মিক হামলায় ইরানের ৮ সেনা সদস্য নিহত হন। গত বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এই হামলায় নিহতরা ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন।
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা হামলা
এদিকে মার্কিন এই হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনায় বড় ধরনের পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এই হামলার দাবি করেছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে (IRIB) প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ‘শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার’ প্রথম ধাপে তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে কুয়েতের ‘ক্যাম্প আরিফজান’ ও ‘আলি আল সালেম’ ঘাঁটি এবং বাহরাইনের ‘জুফায়ের’ ও ‘শেখ ইসা’ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং সেখানে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে।


