টাংগাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মুত্যুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শোক প্রকাশ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীতে ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একে পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতীতে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মতে, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি কেবল কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ‘পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ড’ এবং রাষ্ট্রের বহু দশকের পুঞ্জীভূত ব্যর্থতার বলি হতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের।
আজ সোমবার (২৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ এই মন্তব্য করেন। তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিবৃতিতে অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, "ঈদ মানুষের জীবনে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে ঈদ এলেই জনমনে এক তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়, প্রিয়জন হারানোর আশঙ্কা কাজ করে। প্রতিবছর ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় এত বেশি মানুষ মারা যায় যে, ঈদ যেন আমাদের জন্য মৃত্যুর মিছিল নিয়ে হাজির হয়।"
সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন, "একটি রড বোঝাই ট্রাকে এতজন যাত্রী উঠতে পারল কীভাবে? এই ট্রাকটি ঢাকা থেকে রওনা হয়ে মহাসড়কের বহু জায়গায় পুলিশের সামনে দিয়েই গিয়েছে। কিন্তু কেউ তাকে থামিয়ে প্রশ্ন করেনি; অথবা প্রশ্ন করলেও হয়তো অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পার পেয়ে যেতে দিয়েছে। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই চরম উদাসীনতা ও দুর্নীতির কারণেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল।"
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পরই দেশে এক ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা বাণী দেন এবং নানা পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাস্তবে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। গত ঈদুল ফিতরের সময়েও এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দেশ কম্পিত হয়েছিল এবং অনেক বড় বড় আশ্বাসের কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
তিনি অবিলম্বে এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ তৎপরতা দাবি করেন।


