পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলায় চার দিনে সেনা সদস্যসহ নিহত ৯৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে চার দিনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৪২ সদস্য নিহত হয়েছেন। পাল্টা অভিযানে নিহত হয়েছে ৫৪ সন্ত্রাসী।

Jul 8, 2026 - 23:36
 0  3
পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলায় চার দিনে সেনা সদস্যসহ নিহত ৯৬
×

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে গত চার দিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভয়াবহ সিরিজ হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ব্যাপক রক্তক্ষয় হয়েছে। পৃথক তিনটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অন্তত ৪২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর জোরালো প্রতিরোধ ও চিরুনি অভিযানে অন্তত ৫৪ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। চার দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে দুই পক্ষ মিলিয়ে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ জনে।

​আজ বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (ISPR) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বেলুচিস্তানের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রদেশটিতে তিনটি সুপরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।

​৪ দিনে ৩টি বড় হামলা:

সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক বলেন, “গত চার দিনে বেলুচিস্তানে ভারতের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীদের তিনটি বড় ধরনের হামলার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে আমাদের বীর সেনারা। মাতৃভূমি রক্ষা করতে গিয়ে সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকসহ আমাদের ৪২ জন দেশপ্রেমিক প্রাণ হারিয়েছেন। তবে আমাদের জোরালো পাল্টা জবাবে ৫৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।”

সামরিক মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের ঘটনাক্রম নিচে তুলে ধরা হলো:

​প্রথম হামলা (৪-৫ জুলাই রাত): হান্না উরাক এলাকায় ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা স্থানীয় সাধারণ জনগণের ওপর প্রথম হামলা চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করলেও হামলায় ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৬ জন আহত হন।

​দ্বিতীয় হামলা (৬ জুলাই): মাঙ্গি বাঁধের কাছে একটি পুলিশি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলে প্রাথমিক লড়াইয়েই ১৫ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে। তবে এই লড়াইয়ে ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।

​তৃতীয় ঘটনা ও জিম্মি সংকট (৬ জুলাই থেকে চলমান): মাঙ্গি বাঁধের চৌকিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই পুলিশ সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে সন্ত্রাসীরা। এরপর জিয়ারতের পাহাড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী বড় ধরনের কমান্ডো অভিযান শুরু করলে, কোণঠাসা হয়ে সন্ত্রাসীরা জিম্মি থাকা ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই অভিযানে আরও ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। মাঙ্গি চৌকি ও জিয়ারত মিলিয়ে মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে আইএসপিআর।

সন্ত্রাসীদের সাথে কোনো আলোচনা নয়:

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “পাকিস্তান এবং বেলুচিস্তান এক ও অভিন্ন, এটি সবসময় থাকবে। আমরা প্রতিটি সন্ত্রাসী এবং তাদের নেপথ্যের সহযোগীদের খুঁজে বের করবই। তোমরা (সন্ত্রাসীরা) আমাদের সন্তান ও নাগরিকদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালাবে, আর ভাববে আমরা এসে টেবিল বৈঠকে তোমাদের সাথে আলোচনা করব? সেই সুযোগ আর নেই।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “দেশের জনগণ, সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিটি মুহূর্তে এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যে কোনো মূল্যে আমরা এই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করব, কারণ আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছি।”

​বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত থমথমে রয়েছে। জিয়ারত ও মাঙ্গি বাঁধের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে সন্ত্রাসীদের বাকি সদস্যদের নির্মূল করতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।