যুবদলকে জড়িয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও সিন্ডিকেট করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে: সংবাদ সম্মেলনে মোনায়েম মুন্না

বিভিন্ন ঘটনায় যুবদলকে জড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

Jul 8, 2026 - 17:49
 0  3
যুবদলকে জড়িয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও সিন্ডিকেট করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে: সংবাদ সম্মেলনে মোনায়েম মুন্না
×

দেশের চলমান বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা ও অভ্যন্তরীণ সভাকে জড়িয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলকে লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নবগঠিত কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। তিনি দাবি করেন, যুবদলের দলীয় কর্মসূচিতে বা অভ্যন্তরীণ সভায় কোনো ধরনের হট্টগোল কিংবা বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেনি; বরং সত্যতা যাচাই না করে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

​আজ বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ হোটেল ভিক্টোরির সাঙ্গু ব্যাংকুইট হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন। সমসাময়িক দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুবদলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মপরিকল্পনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান:

সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি বলেন, “যুবদলের সাম্প্রতিক সভাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে হট্টগোলের যে খবর এসেছে, তা সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন। গণমাধ্যমের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত, যাতে কোনো মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে অপপ্রচার ছড়ানো না হয়।”

তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির লক্ষ্য:

সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আবদুল মোনায়েম মুন্না জানান, যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পর থেকে সারা দেশে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জোরদার করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দক্ষ ও নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিশেষ সাংগঠনিক টিম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই টিমগুলো দ্রুত মাঠে নেমে দলকে ঢেলে সাজাবে।

​তিনি বলেন, “যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগসহ তাদের নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।”

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যুবদলের ত্যাগ:

চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে যুবদলের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে সভাপতি দাবি করেন, স্বৈরাচার পতনের এই জুলাই-আগস্টের লড়াইয়ে যুবদলের দেশপ্রেমিক ৭৮ জন নেতাকর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছেন। এছাড়া এই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের বুলেটের আঘাতে সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আজীবনের জন্য স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’:

সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্নকারীদের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মোনায়েম মুন্না স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আমরা ইতিমধ্যেই অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অনৈতিক কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। শুধু দল থেকে বহিষ্কারই নয়, তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতেও আমরা পিছপা হইনি।”

​সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি যুবদলের জনকল্যাণমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, জনস্বার্থে দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় সেতু নির্মাণ, অকেজো খাল খননসহ ব্যাপক সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে যুবদল। আগামী দিনেও এই জনকল্যাণমুখী ধারা সারা দেশে অব্যাহত থাকবে।

​সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন, সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।