আওয়ামী লীগের একটি অর্গানকেও দেশের মাটিতে ফাংশন করতে দেওয়া হবে না’: ঢাবি ছাত্রদল নেতা আবিদুল
আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গসংগঠন বা সংস্থাকে দেশের মাটিতে আর কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে দেওয়া তো দূরের কথা, দলটির কোনো একটি অঙ্গসংগঠন বা সংস্থাকেও (অর্গান) দেশের মাটিতে আর কোনো ধরনের কার্যক্রম বা ফাংশন করতে দেওয়া হবে না বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।
সাবেক এই ডাকসু ভিপি প্রার্থী স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সাথে জড়িতদের উদ্দেশ্যে বলেন, “স্বৈরাচারের প্রতিটি অর্গান এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে স্পষ্ট করে বলতে চাই—আপনারা দেশের মানুষের ওপর যে নির্মম গণহত্যা চালিয়েছেন, তার জন্য বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত হয়ে অবিলম্বে পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বিচারের মুখোমুখি হোন। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একটি অর্গানকেও আর ফাংশন করতে দেওয়া হবে না, এটাই আমাদের শেষ কথা।”
গত সোমবার রাতে আবিদুল ইসলাম খানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা একটি ভিডিও বার্তায় তাকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই রাজনৈতিক অবস্থান ব্যক্ত করতে শোনা যায়।
লাশ ও রক্ত দেখেই এসেছে হাসিনা পতনের স্লোগান:
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি চারণ করে এই ছাত্রনেতা বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে সহযোদ্ধাদের রক্ত ঝরতে দেখেছি, আমার বোনদের ওপর হামলা ও আহত হতে দেখেছি। একই সাথে ঢাকার বাড্ডার রাজপথে আমি ভাই জিল্লুরের রক্তাক্ত লাশ সশরীরে দেখেছি। সেই রক্ত আর লাশকে সাক্ষী রেখেই আমরা রাজপথে শেখ হাসিনা পতনের একদফা স্লোগান তুলেছিলাম।”
শত অনৈক্যের মাঝেও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান:
ভিডিও বার্তায় আবিদুল ইসলাম আরও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমি ছোট্ট শিশু আনাসের নিথর লাশ দেখেছি। সুতরাং লড়াইয়ের মাঠে আমি লাশ দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমি নিজের চোখে রক্ত দেখেছি, তীব্র সংগ্রাম দেখেছি। এতকিছুর পরও আমি যে আজ অলৌকিকভাবে বেঁচে আছি, সেটাকে নিজের জীবনের জন্য স্রেফ একটি ‘বোনাস’ মনে করি।”
তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধরে রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের কাছে ‘জুলাই’ মানে বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আপসহীন দীর্ঘ সংগ্রাম। এই ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও বিপ্লবের চেতনাকে চিরকাল জীবিত রাখার জন্য, আমাদের নিজেদের মধ্যকার শত অনৈক্যের মাঝেও বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থেকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে।”


