নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারকে চিঠি দিয়েছেন ৭১ জন ব্রিটিশ এমপি ও লর্ডস সদস্য।

Jul 7, 2026 - 15:28
 0  4
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি ব্রিটিশ এমপিদের
×

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন, অবর্ণনীয় জুলুম ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির বিচারমন্ত্রীর ওপর অবিলম্বের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একদল আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ এবং ‘স্কাই নিউজ’-এর পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্তত ৭১ জন প্রভাবশালী ব্রিটিশ এমপি এবং লর্ডস সভার সদস্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারকে যৌথভাবে লেখা একটি অফিসিয়াল চিঠিতে এই দাবি জানান।

পদ্ধতিগত নির্যাতনের দায় নেতানিয়াহু সরকারের:

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, “ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যে পদ্ধতিগত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে নথিভুক্ত নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ দায় সরাসরি ইসরায়েল সরকারের। আর এই দায় থেকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনোভাবেই মুক্ত হতে পারেন না।”

​যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে তৈরি করা এই বিশেষ চিঠিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি এবং ৭ জন লর্ডস সদস্যসহ বিভিন্ন দল ও জোটের আইনপ্রণেতারা স্বাক্ষর করেছেন।

​‘ইসরায়েলের প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তির অবসান হোক’:

আইনপ্রণেতারা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারকে জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারবিষয়ক মন্ত্রী ইয়্যারিভ লেভিনের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের চলমান ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে’ ব্রিটেন যেন বিশ্বমঞ্চে অগ্রণী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

​চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গত বছর ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোটরিচের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নেওয়া পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা ‘স্বাগত’ যোগ্য হলেও, তা ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের অমানবিক আচরণে খুব কমই পরিবর্তন এনেছে। বরং এর পর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মাঝে ‘প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ বা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ভয়াবহ চিত্র:

ব্রিটিশ এমপিরা তাঁদের চিঠিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেন। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল—গাজায় ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ এবং নিষ্পাপ শিশুদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, জীবনধারণের ন্যূনতম উপকরণ ও খাদ্য-রসদ ধ্বংস করার ঘটনা এখন ইসরায়েলি বাহিনীর একটি নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। আর একেই তারা শাস্তির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

​আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খোদ যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেই নেতানিয়াহু ও ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জোরালো হওয়া ঋষি সুনাকের পর বর্তমান লেবার সরকারের ওপর বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কূটনৈতিক চাপ তৈরি করবে।