অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : তথ্য উপদেষ্টা
আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়ে আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই মাঠপর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী বছরের (২০২৭ সালের) অক্টোবরের মধ্যে দেশের সকল স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ শেষ করা হবে।”
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তথ্য উপদেষ্টা এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
তৈরি হচ্ছে নির্বাচনের রোডম্যাপ:
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যেই তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করছে, যা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে ব্যবস্থা:
সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের প্রধান ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ানো বিদ্যুৎ বিল নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “গত জুন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার ব্যাপারে জনগণের পক্ষ থেকে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। এই অতিরিক্ত বিল আসার পেছনে কোনো কারিগরি ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অনিরাপদ খাদ্য ঠেকাতে তৈরি হচ্ছে ডাটাবেজ:
দেশে অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “দেশে খাদ্য চাষাবাদ এবং দীর্ঘমেয়াদে তা সংরক্ষণ করার পর্যায়ে অনেক ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক (কেমিক্যাল) ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সকল খাদ্য ব্যবসায়ীদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি কেন্দ্রীয় ‘তথ্যভাণ্ডার’ বা ডাটাবেজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।” এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের একদিকে যেমন সচেতন করা হবে, অন্যদিকে অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
ককটেল বিস্ফোরণের তদন্ত ও জুলাই কটূক্তি প্রসঙ্গে:
সাভারে এনসিপির (NCP) জনসভায় আকস্মিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “এই নাশকতামূলক ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে গভীর তদন্ত হবে। এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে চব্বিশের ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তি বা নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা বা বিরূপ মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। তবে বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি সরাসরি কোনো ফৌজদারি অপরাধের (ক্রিমিনাল অফেন্স) পর্যায়ে পড়ে না। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্যকে ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কি না কিংবা এ বিষয়ে কোনো নতুন আইনি সুরক্ষার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলে আলোচনা চলতে পারে।”


