আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় জানাজায়ও লাখো মানুষের ঢল

ইরানের পবিত্র কোম শহরের জামকারান মসজিদে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি এতে ইমামতি করেন।

Jul 7, 2026 - 13:07
 0  3
আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় জানাজায়ও লাখো মানুষের ঢল
×

ইরানের রাজধানী তেহরানে ঐতিহাসিক ও স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাজা ও শোকযাত্রার পর এবার দেশটির পবিত্র শহর কোমে (Qom) প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেহরানের মতো এখানেও লাখ লাখ শোকাহত ও অশ্রুসিক্ত মানুষের ঢল নামে।

​আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) সকালে কোমের বিখ্যাত ও পবিত্র জামকারান মসজিদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের এই দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়।

জানাজায় ইমামতি ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণ:

আজ সকালের এই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি। খামেনির শেষ বিদায়ের এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় বিপুলসংখ্যক সাধারণ ইরানি নাগরিকের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষস্থানীয় ওলামা ও ধর্মীয় আলেম, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) সহ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

​জানাজার নামাজ শেষে মরদেহবাহী কফিন নিয়ে এক বিশাল শোকযাত্রা জামকারান মসজিদ থেকে কোমের অপর পবিত্র স্থান হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.)–এর মাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

কোম শহরে মানুষের জনসমুদ্র:

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার বিকেল থেকেই ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ ও দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ খামেনির জানাজায় শরিক হতে কোম শহরে আসতে শুরু করেন। আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই জামকারান মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণ ও চারপাশের সড়কগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

​এ সময় লাখো শোকাহত মানুষ পায়ে হেঁটে এবং শত শত যানবাহন নিয়ে এই ঐতিহাসিক শোকযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি শক্তির প্রতীক হিসেবে কালো ও লাল রঙের বিশাল বিশাল পতাকা শোভা পাচ্ছিল।

হামলার চার মাস পর রাষ্ট্রীয় বিদায়:

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক আকস্মিক যৌথ সামরিক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। এরপর শনি ও রোববার সেখানে প্রথম জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় এবং সোমবার তেহরানের রাজপথে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে মূল শোকযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইরাক হয়ে মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন:

খামেনির এই রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় বিদায় অনুষ্ঠান কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরানের কোম শহরের প্রক্রিয়া শেষ করে এই শোকানুষ্ঠান ও প্রতীকী জানাজা প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ এবং কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান ধর্মীয় শহর মাশহাদে অবস্থিত অষ্টম ইমাম হযরত রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।