বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

Jul 7, 2026 - 16:57
 0  3
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
×

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এ সময় দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।

​বৈঠকে উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের কল্যাণ, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামী দিনগুলোতে ঢাকা-বেইজিংয়ের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর, সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে উভয় পক্ষই দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ইকোনমিক করিডোর নিয়ে আলোচনা:

বৈঠকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ভাগ্যবদলের চাবিকাঠি হিসেবে পরিচিত বহুল আলোচিত ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ (Teesta Barrage Master Plan) নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। এছাড়া ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর’ (CMBEC) এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং বাংলাদেশে চীনের চলমান ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

​রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা কামনা:

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও দ্রুত সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দেন বিরোধীদলীয় নেতা। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও সম্মানজনক নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তিনি চীন সরকারের প্রত্যক্ষ ও কার্যকর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ:

গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন—ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের রাজনৈতিক সেকশনের পরিচালক ঝ্যাং জিং এবং পলিটিকাল অ্যাটাচে রু কি।

​অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন—তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।