গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সংঘাতের দিকে যাবে রাজনীতি’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশের রাজনীতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বরাবর ৬ দফা স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

Jul 7, 2026 - 21:04
 0  4
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সংঘাতের দিকে যাবে রাজনীতি’: মিয়া গোলাম পরওয়ার
×

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রধান সংকট হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া। জনগণের এই ঐতিহাসিক রায় যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এই সংকট দেশের সামগ্রিক রাজনীতিকে চরম সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

​আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউস্থ জাতীয় সংসদের ন্যাম ভবনের সামনের সড়কে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সদস্য, পঙ্গুত্ববরণকারী, আহত ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সব গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্পিকারের কাছে ৬ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি:

মানববন্ধনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর বরাবর ৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ১১ দলীয় ঐক্য, শহীদ পরিবার এবং আহতদের পক্ষে এই স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন সংরক্ষিত আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও শিশু শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম।

​স্মারকলিপি প্রদান প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা স্পিকার সাহেবকে স্পষ্ট বলেছি—দেশের অভিভাবক হিসেবে আপনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতা উভয়কে সঙ্গে নিয়ে গণভোটে প্রকাশ পাওয়া বাংলাদেশের প্রায় ৭০ ভাগ জনগণের রায় বাস্তবায়নে অবিলম্বে আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। স্পিকার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।”

বুধবার জাতীয় সেমিনার:

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও জানান, ১১ দলের উদ্যোগে আগামীকাল বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (IDEB) একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সেমিনারে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।

প্রয়োজনে আরও একটি জুলাই বিপ্লব:

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা আশা করছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের এই স্মারকলিপি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেবে। জনগণের প্রত্যাশা ও মতকে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় বসে পার্লামেন্ট চালাবেন, দেশের মানুষ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে রাজপথে আরও একটি জুলাই বিপ্লব হবে, তারপরও আমরা দাবি আদায় না করে রাজপথ ছাড়বো না।”

​তিনি সরকারের উদ্দেশে আরও বলেন, “আমরা রাজপথে কোনো সংঘাত বা আন্দোলন চাই না, আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই। আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন রক্তাক্ত জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। তাই এই গণহত্যার বিচার আপনাদের করতেই হবে। যদি বিচার না করেন, তবে দেশের সাধারণ জনগণ আপনাদের বিচার করতে বাধ্য করবে।”

আসামিদের জামিন ও সাক্ষীদের হুমকিতে শহীদ পরিবারের অসন্তোষ:

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সদস্যরা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও বর্তমান অবস্থায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, এখনো গণহত্যার অনেক চিহ্নিত মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। উল্টো মামলার সাক্ষীদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পুরো বিচার প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তাঁরা দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ:

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন—জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. আবদুল ওহাব মিনার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজ হোসাইন প্রমুখ।