দেশে উৎপাদিত ওষুধ অত্যন্ত উচ্চমানের, রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বে’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ আন্তর্জাতিক মানের এবং তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই অনুষ্ঠানে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে প্রণোদনার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের গুণগত মান আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “দেশে তৈরি বেশিরভাগ ওষুধই অত্যন্ত উচ্চমানের এবং এগুলো নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশের রোগীরাও বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবহার করে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট প্রকাশ করছেন।”
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক এক নীতি নির্ধারণী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চলতি মাস থেকেই গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গ্রামীণ স্বাস্থ্য অবকাঠামোর টেকসই পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “চলতি বছরে দেশের একদম প্রান্তিক ও গ্রামপর্যায়ে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর এটিই হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূল স্লোগান। আমরা এই লক্ষ্যটি শুধু মুখে মুখে বলছি না, বরং বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “চলতি জুলাই মাস থেকে নতুন বাজেট ঘোষণার সাথে সাথেই এই দেশব্যাপী গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই মহৎ প্রকল্পের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।”
চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশেষ সুবিধা ও প্রণোদনা:
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বেসরকারি খাতের নতুন ও দক্ষ উদ্যোক্তাদের সরকার সব সময় উৎসাহিত করছে। দেশের চিকিৎসা খাতের স্বনির্ভরতা বাড়াতে এবারের বাজেটেও আমরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় সরঞ্জাম (Medical Equipment) উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য প্রচুর সুযোগ-সুবিধা, কর রেয়াত ও বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি।”
অর্থমন্ত্রী আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, “বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ আর সঠিক নীতিমালা পেলে তারা বিশ্বমঞ্চে অন্যতম সেরাটা দেখানোর যোগ্যতা রাখেন। তবে এই সবকিছুর পেছনে দিনশেষে সঠিক নেতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সাত দিনই কাজ:
দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের একজন দূরদর্শী নেতা আছেন, যিনি দেশকে অবিরাম সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং আমাদের সঠিক পথ দেখাচ্ছেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় আমরা এখন সপ্তাহের সাত দিনই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দেশের আপামর জনগণকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের যে রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সরকার যেকোনো মূল্যে তা পূরণ করবে।”
আলোচনা সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তাবৃন্দ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বের (PPP) ওপর বিশেষ জোর দেন।


