ঝালকাঠিতে বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪
ঝালকাঠির রাজাপুরে যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ইংলিশ শিক্ষকসহ দুইজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। পালিয়ে গেছে ঘাতক বাস ও মাহিন্দ্রা চালক।
ঝালকাঠির রাজাপুরে যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ঘাতক বাসটি নিয়ে চালক সটকে পড়ে এবং মাহিন্দ্রার চালকও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজাপুর-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার বড় কৈবর্তখালী সমবায় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বেল্লাল সরদারের ছেলে মেহেদী (২৪) এবং চরমোনাই কোরআন শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি শিক্ষক, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার কচুয়া এলাকার মৃত হোসেন মাস্টারের ছেলে এবিএম আব্দুর রহিম।
আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় আহত চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন:
রিমন চন্দ্র বেপারী (৩৫) — রাজাপুর উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকার মৃত রমেশ চন্দ্র বেপারীর ছেলে।
মো. আবির রহমান (৩১) — ভান্ডারিয়া উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বজলুর রহমানের ছেলে।
মো. নজরুল ইসলাম (৫৫) — একই উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত লাল মিয়া হাওলাদারের ছেলে।
আহত অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ছেড়ে আসা ‘বরিশাল এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে রাজাপুরের বড় কৈবর্তখালী সমবায় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ভান্ডারিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সাথে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে মাহিন্দ্রাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী প্রাণ হারান।
খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে রাজাপুর থানায় নিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, “সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান এবং পালিয়ে যাওয়া বাসটিকে শনাক্ত করে চালককে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


