গ্যাস সংকট কাটাতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে সরকার জরুরি ও বিকল্প সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।

Aug 15, 2026 - 20:22
 0  3
গ্যাস সংকট কাটাতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
×

​গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানায় যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান এই সংকট পুরোপুরি কাটাতে হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সক্ষমতা তৈরি করতে হবে, আর এসব অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

​শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটে ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক কর্মশালা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

​বাণিজ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "দীর্ঘদিনের জম জমে থাকা এই সংকট কাটাতে হলে গ্যাস আমদানি এবং স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত সক্ষমতা দ্বিগুণ করা জরুরি। এই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি (LNG) আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।"

​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "স্থায়ী ও মানসম্মত অবকাঠামো তৈরিতে দুই বছরের মতো সময় লেগে যাবে। তবে মধ্যবর্তী এই দুই বছর আমাদের দেশের উদীয়মান শিল্পখাতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারের প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কোনো বিকল্প উপায়ে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ চলছে।"

​জরুরি সমাধানের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোনাস’ (Petronas) থেকে বড় জাহাজে এলএনজি এনে সাগরে ছোট ছোট জাহাজে স্থানান্তরের (ship-to-ship transfer) মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর একটি সম্ভাব্য কৌশল সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।"

​এর আগে, সিলেটে আয়োজিত কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত মূল কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট গবেষকরা উপস্থিত থেকে তাঁদের নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।