আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের
আফগানিস্তানের কাবুল ও কান্দাহারে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এরপরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণার কথা জানিয়েছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও কান্দাহার শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই হামলার পরপরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
খাজা মোহাম্মদ আসিফ তাঁর পোস্টে লেখেন, পাকিস্তান সরাসরি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।”
এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও সকালে এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও চূড়ান্ত।”
হামলার বিস্তারিত
কাবুলে আল-জাজিরার সংবাদদাতা নাসের শাদিদ জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে কাবুলে প্রথম বোমা ফেলে পাকিস্তানি বাহিনী। পরবর্তীতে আবারও সেখানে বোমা ফেলা হয়। প্রাথমিকভাবে এই হামলায় হতাহতের কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
গতকালের এক ঘটনায় আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে দেশটির সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়, যাতে পাকিস্তানের দুই সেনা নিহত হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবেই কাবুল ও কান্দাহারে এই পাল্টা হামলা চালাল ইসলামাবাদ।
এর আগে গত রোববার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় ১৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার দাবি করেছিল জাতিসংঘ মিশন। যদিও ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
তালেবানের অবস্থান
গত রোববারের হামলার পর তালেবান সরকারের সামরিক মুখপাত্র মৌলভি ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদি ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার রেশ ধরে সীমান্ত সংঘর্ষ এবং সর্বশেষ পাকিস্তানের এই বড় ধরনের বিমান হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


