জামায়াত আমিরের জন্য ঐতিহাসিক বাড়ি বরাদ্দ

দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক ২৯ নম্বর বাসভবন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য বাড়িটি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

Feb 27, 2026 - 20:26
 0  9
জামায়াত আমিরের জন্য ঐতিহাসিক বাড়ি বরাদ্দ
×

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক ২৯ নম্বর বাসভবনটি বরাদ্দ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অব্যবহৃত থাকা এই বাড়িটি এখন নতুন সাজে সজ্জিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক ‘লাল বাড়ি’ ও এর গুরুত্ব

​ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত এই দোতলা লাল রঙের ভবনটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

​১৯৯১ সালে: পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এখানে বাস করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

​১৯৯৬-২০০১ সালে: তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখানে নিয়মিত অফিস ও বসবাস করেছেন। সে সময় এটি চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

​২০০১ সালের পর থেকে দীর্ঘ আড়াই দশক এই বাড়িতে আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি।

চলছে সংস্কার কাজ

​দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তর জোরেশোরে এর মেরামত ও সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বাড়ির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। এখন রাস্তা এবং রঙের ফিনিশিং চলছে। আসবাবপত্র দেওয়া হবে বিরোধীদলীয় নেতার চাহিদার ভিত্তিতে। তবে পুরোপুরি বসবাসের উপযোগী করতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে।

জামায়াতের বক্তব্য

​বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন হিসেবে এটি বরাদ্দ দেওয়া হলেও ডা. শফিকুর রহমান কবে নাগাদ সেখানে উঠবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

​দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী সরকার এই বাড়িটি বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সেখানে ওঠার ব্যাপারে দলের কোনো ফোরামে এখনো আলোচনা হয়নি। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।"

​মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত মিন্টো রোডের এই বাড়ির চারপাশেই রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসভবন। এর নিকটেই বাস করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই ঐতিহাসিক বাড়িতে অবস্থান নেওয়া হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।