আজ কাঁঠাল দিবস জাতীয় ফলকে নতুন করে জানুন
গন্ধে বিতর্কিত হলেও স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য কাঁঠাল। বিশ্ব কাঁঠাল দিবসে জেনে নিন বাংলাদেশের জাতীয় ফলের ইতিহাস, পুষ্টিগুণ, উৎপাদন ও বহুমুখী ব্যবহার।
আজ বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার, পুষ্টিগুণ এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতেই প্রতিবছর ৪ জুলাই দিবসটি পালন করা হয়।
কাঁঠাল এমন একটি ফল, যা নিয়ে মানুষের অনুভূতি একেবারেই ভিন্নধর্মী। কেউ এর মিষ্টি স্বাদ ও সুবাসে মুগ্ধ, আবার কারও কাছে এর গন্ধই অপছন্দের কারণ। তবে বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, কাঁঠাল বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কবি শামীম আজাদ তাঁর স্মৃতিকথায় কাঁঠাল সম্পর্কে লিখেছেন—এই ফলকে হয় মানুষ গভীরভাবে ভালোবাসে, নয়তো একেবারেই সহ্য করতে পারে না। মাঝামাঝি অবস্থান যেন খুব কমই দেখা যায়।
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু সুস্বাদু ফল হিসেবেই নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও বিশেষভাবে পরিচিত। কাঁচা কাঁঠাল দীর্ঘদিন ধরেই বাঙালির রান্নাঘরে জনপ্রিয়। আঁশযুক্ত গঠনের কারণে একে অনেকে ‘গরিবের মাংস’ বলেও অভিহিত করেন। অন্যদিকে পাকা কাঁঠাল তার মিষ্টি স্বাদ, প্রাকৃতিক সুবাস এবং পুষ্টিগুণের জন্য সমাদৃত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠালে রয়েছে খাদ্যআঁশ, প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে প্রোটিনের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি।
কাঁঠাল এখন শুধু ফল নয়, নানা খাবারের উপাদান
সময়ের সঙ্গে কাঁঠালের ব্যবহারও বেড়েছে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল মেলায় কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, বার্গার, কাবাব, কাটলেট, চিপস, পাকোড়া, পেস্ট্রি, কেক, হালুয়া, নকশিপিঠা, পাটিসাপটা ও রুটিসহ নানা উদ্ভাবনী খাবার প্রদর্শন করা হয়েছে।
এতে স্পষ্ট হয়, জাতীয় ফল কাঁঠালের সম্ভাবনা শুধু ফল হিসেবে নয়, খাদ্যশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবেও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ
উৎপাদনের দিক থেকেও কাঁঠাল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ফল। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে।
কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে কাঁঠাল জন্মায় এবং দেশের মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয়। এ কারণেই কাঁঠাল জাতীয় ফলের মর্যাদা পেয়েছে।
জাতীয় ফলকে নতুনভাবে আবিষ্কারের দিন
শুধু বাংলাদেশ নয়, শ্রীলঙ্কারও জাতীয় ফল কাঁঠাল। এছাড়া ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ু রাজ্যেরও রাজ্যফল এটি।
২০১৬ সাল থেকে বিশ্ব কাঁঠাল দিবস পালিত হলেও এর সূচনা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। তবে দিবসটির মূল উদ্দেশ্য একটাই—জাতীয় ফল কাঁঠালের পুষ্টিগুণ, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
আজ কাঁঠাল দিবসে হয়তো এক টুকরো পাকা কাঁঠাল কিংবা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি নতুন কোনো খাবার আপনাকে আবারও মনে করিয়ে দিতে পারে—জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালের গুরুত্ব ঠিক কতটা।
সূত্র: ডেজ অব দ্য ইয়ার ও বাংলাপিডিয়া


