পাকিস্তানে বেফাকের সভাপতি নির্বাচিত হলেন মুফতী ত্বকী উসমানী
পাকিস্তানের বৃহত্তম মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসের সভাপতি হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্ববরেণ্য আলেম জাস্টিস মুফতী মুহাম্মাদ ত্বকী উসমানী।
দ্বিতীয়বারের মতো সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাকিস্তানের কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া’র কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানের গ্র্যান্ড মুফতী ও বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইসলামি চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ ত্বকী উসমানী।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) করাচির বিখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ ‘জামিয়া দারুল উলুম করাচি’তে অনুষ্ঠিত বেফাকের উচ্চপর্যায়ের যৌথ নির্বাচনী সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।
টানা সপ্তমবারের মতো নাযিমে আলা হানীফ জালান্ধরী:
পাকিস্তান বেফাকের পক্ষ থেকে জারি করা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, সভায় মাওলানা মুহাম্মাদ হানীফ জালান্ধরী টানা সপ্তমবারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বোর্ডের ‘নাযিমে আলা’ (মহাসচিব) নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনী অধিবেশনে সভাপতি পদের জন্য জাস্টিস মুফতী তাকী উসমানীর নাম এবং নাযিমে আলা পদের জন্য মাওলানা হানীফ জালান্ধরীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেন দেশটির জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। উপস্থিত এক হাজারের বেশি কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় সদস্য হাত তুলে সর্বসম্মতিক্রমে এই শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন।
বিবৃতি অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সভাপতি মুফতী তাকী উসমানী ও নাযিমে আলা মাওলানা হানীফ জালান্ধরী আগামী ৫ বছরের (২০২৬-২০৩১) জন্য পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসের শীর্ষ নেতৃত্বের হাল ধরবেন।
মাওলানা ফজলুর রহমানের অভিনন্দন:
বেফাকুল মাদারিসের নবনির্বাচিত শীর্ষ দায়িত্বশীলদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “এই সুযোগ্য ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব পাকিস্তানের মাদরাসাগুলোর পারস্পরিক ঐক্য, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ইসলামি মূল্যবোধের বিকাশে বরাবরের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, যেকোনো সফল ও আদর্শিক আন্দোলন সবসময় সুনির্দিষ্ট নীতি, সঠিক কৌশল ও স্পষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এগিয়ে যায়। মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে যেকোনো অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে সবসময় পারস্পরিক সম্মান, যুক্তি ও ফলপ্রসূ সংলাপের সীমার মধ্যে রেখেই সমাধান করতে হবে।
উল্লেখ্য, মুফতী মুহাম্মাদ ত্বকী উসমানীর মতো বিশ্বমানের ফকিহ ও গবেষকের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা ও কওমি মাদরাসাগুলোর আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন দেশটির আলেম সমাজ।


