কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগ দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৬০ কেজি গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দাউদকান্দি থানার ওসির এক বিতর্কিত ও বিস্ফোরক বক্তব্য সামনে এসেছে।

Jun 30, 2026 - 11:35
 0  1
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগ দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে
×

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা ১৬০ কেজি গাঁজা থানায় মামলা না দেখিয়ে উল্টো মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার এক গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর জেলা জুড়ে তোলপাড় এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

​অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— দাউদকান্দি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমাম উদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাফিজুর রহমান। তবে এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) একটি বিস্ফোরক মন্তব্য।

যেভাবে উদ্ধারকৃত গাঁজা ‘বিক্রি’ হলো:

থানার একাধিক সূত্র ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি গাঁজাভর্তি কাভার্ডভ্যান মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা সংলগ্ন ফায়ার সার্ভিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই রাতে নাইট ডিউটিতে (নৈশকালীন দায়িত্ব) ছিলেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান।

​গোপন সংবাদ পেয়ে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সেখানে পৌঁছান এবং কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি গাইটে (বস্তা) থাকা মোট ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। এরপর কাভার্ডভ্যানটি প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাত ১২টার দিকে প্রতি কেজি ৬ হাজার টাকা দরে তিন মাদককারবারির কাছে ধাপে ধাপে পুরো ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রি করে দেন ওই দুই কর্মকর্তা। পরে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে গাঁজাগুলো নিয়ে যায় ক্রেতারা। শুধু তাই নয়, গাঁজা বিক্রির পর কাভার্ডভ্যানের চালকের কাছ থেকে আরও ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অস্বীকার ও দায় এড়ানোর চেষ্টা:

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই ইমাম উদ্দিন ঘটনার সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, "ওই সময় আমি নাইট ডিউটিতে ছিলাম ঠিকই, তবে গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।" অন্যদিকে এএসআই হাফিজুর রহমান দায় এড়িয়ে বলেন, "এ বিষয়ে ইমাম স্যার ভালো জানেন, আমি কিছু বলতে পারব না।" তবে তারা দুজনেই গণমাধ্যমকর্মীদের এই বিষয়টি সমাধানের জন্য ওসির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান।

ওসির সেই বিস্ফোরক মন্তব্য:

এই নজিরবিহীন দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ বারী ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন সমালোচনা চলছে। ওসি বলেন:

​"এসআই ইমাম একটা ডাকাত। তার এই কাজটা ঠিক হয়নি। ১০০ কেজি দিয়ে (মামলা) রেকর্ড করে বাকিটা এদিক-সেদিক করলে আমি কিছুই বলতাম না। এখন তার বিরুদ্ধে সংবাদ হলে আমার কিছু বলার নেই।"

বিভাগীয় ব্যবস্থার আশ্বাস:

দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশের মতো একটি দায়িত্বশীল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।