পায়রা সেতুতে ঘুসের অভিযোগে চাকরি হারালেন টোলকর্মী

পটুয়াখালীর পায়রা সেতুর টোল প্লাজায় ১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক পারাপারে সহায়তার অভিযোগে টোলকর্মী মো. হাসানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চালককে জরিমানা ১৫ হাজার টাকা।

Jul 2, 2026 - 16:31
 0  4
পায়রা সেতুতে ঘুসের অভিযোগে চাকরি হারালেন টোলকর্মী
×

পটুয়াখালীর লেবুখালীতে অবস্থিত পায়রা সেতুর টোল প্লাজায় অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক পারাপারে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে মো. হাসান নামে এক টোলকর্মীকে তাৎক্ষণিক চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মাত্র এক হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ওজনের ট্রাক পার হতে দেওয়ার অভিযোগটি তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ট্রাকচালক কবির হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​গত বুধবার (১ জুলাই) রাতে পায়রা সেতুর উত্তর প্রান্তের টোল প্লাজায় এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

যেভাবে ধরা পড়ল জালিয়াতি:

টোল প্লাজা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ২২ টন ধারণক্ষমতার একটি পণ্যবাহী ট্রাক ২৩ দশমিক ৮০ টন (নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১ দশমিক ৮০ টন বেশি) পণ্য নিয়ে সেতুর উত্তর প্রান্তের ওজন স্কেলে (Weigh Scale) আসে। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ওজনের কারণে ট্রাকটির সেতু পার হওয়ার অনুমতি ছিল না। কিন্তু ওজন স্কেলে দায়িত্বরত টোলকর্মী মো. হাসান এক হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে বিশেষ কায়দায় ট্রাকটি পার হওয়ার সুযোগ করে দেন।

​তবে ট্রাকটি সেতু পার হয়ে দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছালে সেখানে দায়িত্বরত অন্যান্য নিরাপত্তা ও টোল কর্মীদের সন্দেহ হয়। তারা তাৎক্ষণিক ট্রাকটি আটকে সিসিটিভি ফুটেজ ও ওজন স্কেলের ডাটা পরীক্ষা করলে ঘুষের বিনিময়ে পারাপারের সত্যতা হাতেনাতে ধরা পড়ে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

পায়রা সেতুর টোল ইনচার্জ সজল বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি পার করে দেওয়া এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথেই অভিযুক্ত টোলকর্মী মো. হাসানকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া সেতুর ওজনের নিয়ম লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণের দায়ে মহাসড়ক আইন অনুযায়ী ট্রাকচালক কবির হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।” এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন

​স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের অভিযোগ:

এদিকে এই ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। টোল প্লাজার কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সিন্ডিকেটের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক অর্থের বিনিময়ে পায়রা সেতু পারাপার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচলের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্বপ্নের সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এ ধরনের অনিয়ম চিরতরে বন্ধ করতে টোল প্লাজায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং জড়িত মূল হোতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।