জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে মাঠে থাকবে ইসলামী আন্দোলন: গাজী আতাউর রহমান
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে ১০ জুলাই ঢাকায় গণমিছিলসহ মাসব্যাপী দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংস্কার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের মহাসচিব।
চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা ও চেতনা বাস্তবায়নে এবং স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপকল্পে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও তার সহযোগী সংগঠনসমূহ রাজপথে সক্রিয় থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের স্মৃতি এখনো আমাদের মাঝে টাটকা। তারুণ্যের রক্ত আর আহতদের আহাজারি এখনো আমাদের উদ্দীপ্ত করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের অগ্রগতি কাম্য মানের নয়।”
আজ ৪ জুলাই (শনিবার) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির দিনব্যাপী নিয়মিত বৈঠক শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ১০ জুলাই ঢাকায় গণমিছিলসহ মাসব্যাপী দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
সংস্কার স্থবিরতা নিয়ে চরম ক্ষোভ:
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপকল্পে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু জনবান্ধব অধ্যাদেশ অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা মুক্তিকামী দেশবাসীর জন্য চরম হতাশাজনক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জুলাইয়ের বীর শহীদদের রক্তকে কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেবে না।”
মাসব্যাপী প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচিসমূহ:
জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে আন্দোলনের ফ্রন্টলাইন থেকে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়ে নিচের মূল কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করা হয়:
১০ জুলাই (শুক্রবার): ঢাকার রাজপথে দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই)-এর নেতৃত্বে বিশাল ‘গণমিছিল’ অনুষ্ঠিত হবে।
১৮ জুলাই: ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে দেশব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন।
১৯ জুলাই: ইসলামী যুব আন্দোলনের উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনাসভা।
৫ আগস্ট (স্বৈরাচার পতন দিবস): স্বৈরাচার পতনের ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণে দেশব্যাপী সর্বাত্মক ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি।
মাসব্যাপী অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম:
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাসজুড়ে দেশব্যাপী আরও ৭টি বিশেষ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে:
১. জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের কবর জিয়ারত।
২. দেশের প্রতিটি প্রান্তে শহীদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ, আহত ও নির্যাতিতদের সাথে বিশেষ মতবিনিময়।
৩. জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ ও সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’।
৪. দ্রোহ ও জাগরণের জুলাই স্মরণে বিশেষ রাজনৈতিক সংলাপ ও দোয়া মাহফিল।
৫. দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শরীয়াহ অনুমোদিত গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন।
৬. ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রাম তুলে ধরতে ছাত্র আন্দোলনের দেশব্যাপী ‘জুলাই ডকুমেন্টারি প্রদর্শন’।
৭. জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গৌরবময় সংগ্রাম ও লড়াইয়ের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ নিয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রতিযোগিতা আয়োজন।
বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ:
আজকের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল, যুগ্ম-মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক ও মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন এবং সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান ও হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক হারুন অর রশীদ, দেশের সকল সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদকবৃন্দ, সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলী উল্লাহ এবং দলের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও বিষয়ভিত্তিক কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


