বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনো নারীরা কাজ করছেন: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়া সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নারীরা এখনো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী।
আফগানিস্তানের বর্তমান ইমারাতে ইসলামিয়া সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার এবং দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীরা এখনো কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানী কাবুলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদক হাসিব আম্মারকে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ, বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, সরকারের স্বীকৃতি এবং নারী শিক্ষা নিয়ে কথা বলেন আমির খান মুত্তাকী।
নারী শিক্ষার বিষয়ে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "মে মেয়েরা বর্তমানে মাদরাসায় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। তবে ষষ্ঠ শ্রেণির পরবর্তী ধাপে মেয়েদের শিক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।"
বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনগণের মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের ওপর সন্তুষ্ট এবং সারা দেশেই বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের শক্ত সমর্থন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গেই আমাদের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন বেশ ভালো। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইমারাতে ইসলামিয়ার ৪০টিরও বেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।"
ইমারাতে ইসলামিয়াকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আমির খান মুত্তাকী বলেন, "দেশগুলো কেন আমাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে না, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা কেন স্বীকৃতি দিচ্ছে না, সে প্রশ্ন বরং তাদেরকেই করা উচিত।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আফগানিস্তান তার নিজস্ব পছন্দ ও স্বার্থ অনুযায়ী যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য করতে সক্ষম। কাবুলের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তালেবান সরকারের অবস্থান সুসংহত করার প্রচেষ্টার মধ্যেই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামনে এলো।


