নারীর স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ ও বিয়েতে বাবা-মায়ের বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই: ভারতীয় আদালত

কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ, বিয়ে বা ভবিষ্যৎ জীবনের সিদ্ধান্ত নিলে তাতে পরিবার বা পুলিশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

Aug 3, 2026 - 13:03
 0  5
নারীর স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ ও বিয়েতে বাবা-মায়ের বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই: ভারতীয় আদালত
×

ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী যদি নিজের ইচ্ছায় হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন, পছন্দের মানুষকে বিয়ে করেন কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে যেকোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেন—তবে সেই সিদ্ধান্তে বাবা-মাসহ অন্য কারও বাধা বা হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

​আদালত স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ভারতের সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত মৌলিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

​আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​হাইকোর্টের বিচাপতি সন্দীপ জৈন দিব্যা ভাটিয়া (বর্তমান নাম: জোয়া দিয়া ভাটিয়া, ২০) এবং অংশু ভাটিয়া (বর্তমান নাম: আমিনা অংশু ভাটিয়া, ৩৫) নামের দুই বোনের দায়ের করা একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ (স্বশরীরে হাজির করার রিট) আবেদনের শুনানিতে এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন।

​আদালতে জমা দেওয়া রিট আবেদনে দুই বোন অভিযোগ করেন, তারা সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দের মুসলিম পাত্রদের বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তাদের জন্মদাতা বাবা স্থানীয় পুলিশের কতিপয় প্রভাবশালী কর্মকর্তার সরাসরি সহায়তায় তাদের বেআইনিভাবে ঘরের মধ্যে আটকে রেখেছেন এবং স্বাতন্ত্র্য চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করছেন।

​শ্রবণ শেষে আদালত বলেন, “যেহেতু দুই নারীই প্রাপ্তবয়স্ক, তাই নিজস্ব ধর্ম বিশ্বাস, বিয়ে, আবাসন এবং ভবিষ্যতের জীবনযাত্রার বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার তাদের রয়েছে। যদি আবেদনকারীদের বাবা বা পুলিশ তাদের এই স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটায়, তবে তা সংবিধান-স্বীকৃত মর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, গোপনীয়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।”

উত্তর প্রদেশ পুলিশকে কড়া আল্টিমেটাম

​আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দুই নারী সত্যিই স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছেন কি না এবং তারা কোনো বেআইনি বন্দিদশায় আছেন কি না, তা সরাসরি যাচাই করতে উত্তর প্রদেশ পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

​আগামী ৬ আগস্ট দুই বোনকে সশরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাবাকেও ওই দিন আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে দুই নারীকে হাজির করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিল করে কারণ দর্শাতে হবে।