বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হতো না: আসিফ নজরুল

স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনস্বীকার্য অবদানের কথা স্মরণ করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সেই সঙ্গে তাঁর পরবর্তী শাসনকাল এবং শেখ হাসিনার আমলে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়েও মতামত তুলে ধরেছেন তিনি।

Aug 15, 2026 - 15:47
 0  3
বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হতো না: আসিফ নজরুল
×

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তবে স্বাধীনতার পর তাঁর শাসনামলের নানা রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দুর্ভিক্ষ-দুঃশাসনের স্মৃতিকেও কোনোভাবে আড়াল করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

​শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা লিখেন।

​ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, "বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর বহু কারণ রয়েছে। আমি আগেও বলতাম, এখনো বিশ্বাস করি, ওনার জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো না। এই দীর্ঘ সময়ে গণতন্ত্র, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি ওনার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল। এর প্রতিফলন এমনকি ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদের বিতর্কের দলিলেও স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।"

​তবে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের পর্যালোচনায় তিনি লিখেন, "উনি দেশ পরিচালনায় দক্ষ ছিলেন না। ১৯৭১-পরবর্তী সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ পরিচালনা করাও নানা কারণে অত্যন্ত দুরূহ ছিল। কিন্তু এর কোনোটিই ১৯৭২ সাল থেকে তাঁর ক্রমে ক্রমে অত্যাচারী ও একনায়কতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়াকে সমর্থন করে না। তাঁর শাসনামলের দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক হত্যা এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তব ইতিহাসকেও কোনো কিছু দিয়ে আড়াল করা সম্ভব নয়।"

​নিজের মতামত স্পষ্ট করে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, "তাঁর কয়েক বছরের দুঃশাসনের স্মৃতির কথা মনে রেখেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবনব্যাপী অবদানের জন্য বহু মানুষ তাকে ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন; আমি নিজেও তাদের একজন।"

​শেখ হাসিনার শাসনকালের প্রভাব উল্লেখ করে তিনি লেখেন, "আমার মতো মানুষের জন্য এই ভালোবাসার প্রকাশকে কঠিন করে তুলেছিল শেখ হাসিনার শাসনকাল। সেই শাসন ছিল একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদের এক চরম উদাহরণ। নিজের নিষ্ঠুর শাসনকে বৈধতা দিতে তিনি তাঁর বাবাকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করেছেন। এই অতি-ব্যবহারই শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটে শেখ হাসিনার আমলেই, অনেকটা তাঁর নিজের হাতে।"

​১৫ আগস্টের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি আরও লেখেন, "আজ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রায় গোটা পরিবারসহ প্রাণ হারান তিনি।"

​পোস্টের শেষভাগে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর প্রতি দোয়া ও শ্রদ্ধা জানান।