বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় এক বাংলাদেশি আলেম, ২৫ বছরের সাধনায় ১৭ খণ্ডের হাদিস ব্যাখ্যাগ্রন্থ

দীর্ঘ ২৫ বছরের গবেষণায় আরবি ভাষায় ১৭ খণ্ডে জামে তিরমিজির কালজয়ী ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কিফায়াতুল মুগতাজি’ রচনা করেছেন বাংলাদেশি আলেম মাওলানা আবদুল মতীন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যা প্রশংসিত হচ্ছে।

Aug 14, 2026 - 17:21
 0  2
বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় এক বাংলাদেশি আলেম, ২৫ বছরের সাধনায় ১৭ খণ্ডের হাদিস ব্যাখ্যাগ্রন্থ
×

হাদিস শরিফের সংরক্ষণ মুসলিম উম্মাহর এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই লিখিতভাবে হাদিস সংরক্ষণের চর্চা থাকলেও হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে ব্যাপকভাবে গ্রন্থাকারে কিতাব সংকলনের জোয়ার শুরু হয়। এই শতাব্দীতেই সংকলিত হয় হাদিসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাব—যা ‘কুতুবে সিত্তাহ’ নামে পরিচিত। এসবের মধ্যে ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন সাওরা তিরমিজি (রহ.) [২০৯-২৭৯ হি.] সংকলিত ‘জামে তিরমিজি’ বিশ্বজুড়ে অনন্য উচ্চতায় সমাসীন ও ব্যাপকভাবে পঠিত।

​দীর্ঘদিন ধরে হাদিস বিশারদদের মনে জামে তিরমিজির আরো গুণগত, মানসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ একটি আধুনিক ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। সেই দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন বিদগ্ধ মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল মতীন [জন্ম ১৯৬৪ খ্রি.]। দীর্ঘ ২৫ বছরের নিরলস গবেষণা ও সাধনায় তিনি আরবি ভাষায় ১৭ খণ্ডের বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কিফায়াতুল মুগতাজি ফি শরহি জামিয়িত তিরমিজি’ রচনা করেছেন। সমাদৃত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'মুআসসাসা ইলমিয়্যা বাংলাদেশ' থেকে এ বছরই গ্রন্থটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

​গত ৫ আগস্ট ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের ঐতিহাসিক দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকসহ দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষক ও আলেমরা। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক গবেষণাপদ্ধতির অপূর্ব সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থটিকে আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক হাদিস গবেষকরা এক যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নুমানি বলেন, "ইমাম তিরমিজি (রহ.) তাঁর গ্রন্থে শুধু হাদিস সংকলনই করেননি; বরং ফকিহদের মতপার্থক্য, দলিলের বিশ্লেষণ এবং ফিকহি আলোচনাকে অনন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন। মাওলানা আবদুল মতিন দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মানের একটি শরাহ উপহার দিয়েছেন।"

​জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ও বিশিষ্ট হাদিস গবেষক মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, "তিরমিজি শরিফের বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইতিহাসের নানা পর্যায়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ‘কিফায়াতুল মুগতাজি’ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি হাদিসের ধারাবাহিক ও বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে। এটি হাদিস গবেষণার দীর্ঘদিনের একটি বড় শূন্যতা পূরণ করবে।"

​অনুষ্ঠানের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "এটি কেবল একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়, বরং হাদিস পাঠদান ও গবেষণার একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল।"

​প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা তাহমিদুল মাওলা জানান, "গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পরই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। সেই চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের আদলে ১৭ খণ্ডের এই পূর্ণাঙ্গ সেট প্রকাশ করা হয়েছে।"