এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে জিম্মি ও লুটপাটের অভিযোগ
বগুড়ায় এক যুবককে জিম্মি করে মারধর, ৮২ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এনসিপি নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে।
বগুড়া শহরে এক যুবককে জিম্মি করে মারধর, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. আশরাফুল ইসলাম (৩০) নওগাঁ শাখার ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে কর্মরত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বেতনের টাকা উত্তোলন করে সিএনজিযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তিনমাথা রেলগেট এলাকায় সিএনজি পরিবর্তনের পর ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তার পথরোধ করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান (২৮) ও অজ্ঞাতনামা আরও চারজন জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে পুরান বগুড়ার একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং ছুরির ভয় দেখিয়ে তার মানিব্যাগে থাকা ৮২ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, ইসলামী ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ড এবং তিনটি মোবাইল সিম ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযুক্তরা তাদের ইচ্ছামতো একটি জবানবন্দিমূলক ভিডিও ধারণ করে এবং এক দিনের মধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় ঘটনার সাক্ষী হিসেবে সেতু (৩৬) ও পলাশ (৪৭)-এর নাম উল্লেখ করেছেন বাদী। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মামলায় নাম উল্লেখ থাকা এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান বা অন্য কোনো অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।


